আমাদের সাইটের নতুন আপডেট পেতে এ্যাপ্স ইন্সটল করে রাখুন Install Now!

ব্যক্তিগত চিঠি - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের বাংলা ২য় পত্র

ব্যক্তিগত চিঠি - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের বাংলা ২য় পত্র
Join Telegram for New Books
ব্যক্তিগত চিঠি - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের বাংলা ২য় পত্র
চিঠি বা পত্র এর পরিচয়:
চিঠির আভিধানিক অর্থ হলো স্মারক বা চিহ্ন। তবে ব্যবহারিক অর্থে চিঠি বা পত্র লিখন বলতে বোঝায়, একের মনের ভাব বা বক্তব্যকে লিখিতভাবে অন্যের কাছে পৌঁছানোর বিশেষ পদ্ধতিকে। আরও সহজ করে বলা যায়, দূরের কিংবা কাছের কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের কাছে নিজের প্রয়োজনীয় কথাগুলো লিখে জানানোর পদ্ধতিকে চিঠি বা পত্র লিখন বলে।

চিঠি বা পত্রের বিভিন্ন অংশ :
একটি চিঠি বা পত্রে সাধারণত ছয়টি অংশ থাকে। এগুলো হলো- 
১) যেখান থেকে চিঠি লেখা হচ্ছে সে জায়গার নাম ও তারিখ; 
২) সম্বোধন বা সম্ভাষণ; 
৩) মূল বক্তব্য; 
৪) বিদায় সম্ভাষণ; 
৫) প্রেরকের (যে চিঠি পাঠাচ্ছে তার) স্বাক্ষর ও 
৬) প্রাপকের (যে চিঠি পাবে তার) নাম ও ঠিকানা।

চিঠি বা পত্রের প্রকারভেদ :
বিষয়বস্তু বিবেচনায় চিঠিকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যথা-
১) ব্যক্তিগত চিঠি। যেমন: মা-বাবা বা বন্ধু-বান্ধবকে ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে লেখা চিঠি।
২) সামাজিক চিঠি। যেমন: সামাজিক কোনো সমস্যা জানিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য কিংবা প্রশাসনকে জানানোর জন্য লেখা চিঠি।
৩) ব্যবহারিক চিঠি। যেমন: ব্যবহারিক প্রয়োজনে লেখা আবেদনপত্র, ব্যবসাপত্র, নিমন্ত্রণপত্র ইত্যাদি।

চিঠি বা পত্র লেখার নিয়ম :
চিঠি বা পত্র লেখার সময় সাধারণ কয়েকটি নিয়ম পালন করতে হয়। যেমন: 
১. সুন্দর ও স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা; 
২. সহজ, সরল ভাষায় লেখা; 
৩. নির্ভুল বানানে লেখা; 
৪. চলিত ভাষায় লেখা;
৫. বিরামচিহ্নের যথাযথ ব্যবহার করা; 
৬. একই কথার পুনরাবৃত্তি না করা; 
৭. পাত্রভেদে সম্মান ও স্নেহসূচক বাক্য ব্যবহার ইত্যাদি।

(toc)


মনে করো, তুমি সম্প্রতি একটি নতুন উপন্যাস পড়েছো। নতুন এই বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে এবার তোমার বন্ধুকে একটি পত্র লেখো।

আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
০৮.০৮.২০১৬ ইং

প্রিয় সুমন,
পত্রের শুরুতেই আমার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিয়ো। আশা করি পরম করুণাময়ের কৃপায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো আছো। তোমার গত চিঠিতে তুমি আমার পড়া নতুন একটি বই সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলে। চিঠির উত্তর দিতে দেরি হলো বলে আমি দুঃখিত। আজ তোমাকে এ সম্পর্কে জানাতেই আমি চিঠি লিখছি।
সম্প্রতি আমি অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের প্রথম পর্বটি পড়েছি। উপন্যাসটির কাহিনি মূল চরিত্র শ্রীকান্তের আত্মকথনের ওপর রচিত। গ্রন্থটির প্রায় অর্ধেক অংশজুড়েই রয়েছে শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ নামের দুজন কিশোরের বিচিত্র কাহিনি। তবে ইন্দ্রনাথ চরিত্রটি আকস্মিকভাবে হারিয়ে যায় সপ্তম পরিচ্ছেদে। উপন্যাসের বাকি পাঁচটি পরিচ্ছেদে রয়েছে শ্রীকান্ত ও রাজললীর প্রণয়ের কাহিনি। উপন্যাসটিতে আরও কয়েকটি অপ্রধান চরিত্রের সমাবেশ লক্ষ করা যায়। এসব চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- অন্নদাদি, নতুনদা, নিরুদি, রতন প্রমুখ। সব মিলিয়ে উপন্যাসটিতে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। প্রতিটি চরিত্র যেন বিশেষ কোনো বার্তা দিচ্ছে। তাই আমার কাছে বইটি পাঠের অভিজ্ঞতা চির অমলিন হয়ে থাকবে। সুযোগ করে তুমিও পড়ে নিয়ো। আশা করি তোমার ভালো লাগবে।
তোমার পরিবারের বড়দেরকে আমার সালাম এবং ছোটদের আদর দিয়ো। আমাদের জন্য দোয়া করো।

ইতি-
তোমার বন্ধু
শোভন।


একুশের বইমেলা সম্পর্কে তোমার প্রবাসী বন্ধুকে চিঠি লেখো। অথবা, তোমার দেখা কোনো বইমেলার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুকে পত্র লেখো। 

সাভার, ঢাকা
২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০১৬

সুপ্রিয় কথা,
অনেক দিন হয় তুমি কোনো চিঠি লেখোনি। অথচ তোমাকে আমার প্রায়ই মনে পড়ে। এই তো সেদিন বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলায় গিয়েছিলাম। তুমি এই শহর ছেড়ে গিয়েছ প্রায় তিন বছর, অথচ এরই মধ্যে একুশের বইমেলার যে কতটা পরিবর্তন হয়েছে নিজের চোখে না দেখলে তুমি বিশ্বাসই করতে পারবে না। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাস্তার ওপর আগে যে স্টলগুলোর বরাদ্দ দেওয়া হতো, সেগুলো এখন আর নেই। দোকান বসে শুধু একাডেমির ভেতরে আর একটি অংশ বসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মেলার ভেতর কোনো রকম গান-বাজনা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপারটিও প্রশংসার দাবিদার। সর্বোপরি বইমেলাকে এখন আদর্শ বইমেলাই মনে হয়। এসব নিয়মনীতির জন্য ক্রেতা ও দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বইও বিক্রি হচ্ছে আগের তুলনায় বেশি। বাংলা একাডেমি আয়োজিত মাসব্যাপী এই বইমেলার প্রথম দিন থেকেই নেমেছিল জনতার ঢল। অগণিত মানুষের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে মেলার সুবিশাল অঙ্গন। পরিণত হয় লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মিলনমেলায়। এবারের বইমেলার সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে নতুন লেখকদের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা এবং বিক্রি ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক।
বাংলা একাডেমি ফেব্রুয়ারি পহেলা থেকে একটানা একুশ দিন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। যে কয়দিন মেলায় গিয়েছি উপভোগ করেছি বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালা। বইও কিনেছি বেশ কিছু। শীঘ্রই তোমার জন্য কয়েকটি বই পাঠিয়ে দেবো। আজ বিদায় নিচ্ছি। তোমার খবরাখবর জানিয়ে চিঠি দিয়ো।

ইতি-
তোমার বান্ধবী
সাথী


স্কুলের শেষ দিনে তোমার মনের অবস্থা বর্ণনা করে বন্ধুর কাছে চিঠি লেখো।  


মোহাম্মদপুর, ঢাকা
২১শে ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রিয় কবির,
একটু আগে স্কুল থেকে ফিরেছি। মনটা দারুণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ভাবলাম তোমার কাছে দু-কলম লিখতে পারলে আমার বেদনাহত হৃদয় কিছুটা হয়তো শান্ত হবে।
আজ আমার স্কুলজীবনের শেষ দিন। স্কুলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার মাধ্যমে আমাদের বিদায় জানানো হয়। আমরা যারা পরীক্ষার্থী ছিলাম সবাই অন্য দিনের চেয়ে দু-ঘণ্টা আগেই স্কুলে এসে হাজির হয়েছি। কিন্ত আজ আর কারো মনে কোনো আনন্দ নেই, নেই কোনো চঞ্চলতা। সবার চোখেমুখে একটা বিষণ্যতার ছাপ। চারদিকে যেন বিদায়ের সকরুণ সুর বাজছে, সে ধ্বনি আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনি হয়ে আমার হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করতে লাগল। মনে হলো সবচেয়ে বেশি কষ্ট বোধ হয় আমিই পাচ্ছি। আসলে এ-কষ্ট এবং দুঃখ কাউকে বোঝানো কিংবা বলা যায় না বলেই এর তীব্রতা এত বেশি। যথাসময়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্কুলের নবম শ্রেণির কৃতী ছাত্রী দোলা আমাদের সবাইকে ফুলের-মালা পরিয়ে দিল। সূচনা হলো বিদায়ের! ওবায়দুল স্যার সূচনা-ভাষণ দিলেন। একে একে সিনিয়র শিক্ষকগণ বক্তব্য রেখে আমাদের প্রতি তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন। 

স্কুলের শ্রেষ্ঠ ছাত্র হিসেবে আমাকে যখন বক্তব্য দেওয়ার জন্য বলা হলো, তখন আমি ভেবেই পাচ্ছিলাম না কীভাবে কথা বলব। দু-একটি কথা বলার পর আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। দু-চোখের জল বাধা মানল না। পনেরো সেকেন্ড পর অতি কষ্টে উচ্চারণ করলাম আমাদের জন্য দোয়া করবেন। এটুকু বলেই আমার বক্তব্য শেষ করতে হলো। সভাপতির ভাষণে বক্তব্য রাখলেন আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন প্রধান শিক্ষক। তিনি আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে চলার পথের পাথেয় সম্পর্কে নানা উপদেশ দিলেন। সবশেষে আমাদের সবাইকে উপহার হিসেবে একটি করে বই দেওয়া হলো। এরপর সংগীতানুষ্ঠান। বিদায়ের গানে বেদনার সুর বেজে উঠতেই আমাদের স্কুলজীবনের শেষ দিনের মুহূর্তগুলো হৃদয়পটে ছবির মতো আটকে গেল। এ-স্মৃতি কখনোই ভোলার নয়। সত্যিই, আজকের দিনে তোমাকে পাশে পেলে ভালো হতো। আজ এখানেই শেষ করছি। তাড়াতাড়ি চিঠি দিও। চাচা-চাচিকে সালাম জানিও।

ইতি
তোমার বন্ধু
টুটুল


এসএসসি পরীক্ষা পাসের পর তুমি বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করতে চাও। এ ব্যাপারে যুক্তি দেখিয়ে তোমার বন্ধুর কাছে একটি চিঠি লেখো।


১৮ই জুন ২০১৬
প্রিয় পবন
কেমন আছো? পড়ালেখার কী অবস্থা? অনেক দিন তোমার চিঠি পাই না। আজকে আমি তোমাকে জানাব পরীক্ষার পর কী করব সেই পরিকল্পনার কথা।
এসএসসি ভালো ফলের জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করছি। পরীক্ষার পর আমি বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তুমি হয়তো ভাবছ সাধারণ পড়াশোনা ছেড়ে কেন বৃত্তিমূলক শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী হলাম। তোমাকে তার কারণটা বুঝিয়ে বলি।

তুমি তো আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা জানো। বাবাকে হারিয়েছি সেই ছেলেবেলায়। আমাদের দুই ভাইকে মানুষ করার জন্য মা অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন। অনেক ত্যাগ তাঁকে স্বীকার করতে হয়েছে। তাঁর সামান্য বেতনের চাকরি দিয়ে আমাদের সংসার খুব কষ্টে চলছে। আমি বড় বলে পরিবারের জন্য আমার একটা বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের দেশে সাধারণ পড়াশোনা খুবই ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা হলো হাতে-কলমে শিক্ষা। এ শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের অভাব ও সময়ের অপচয় হয় না। তাছাড়া বৃত্তিমূলক শিক্ষাগ্রহণে সেশনজটের কোনো ঝামেলা নেই। এ শিক্ষা শেষে সরাসরি কাজে ঢোকা সম্ভব। তাই মন হতাশায় জর্জরিত হয় না। এর ফলে আর্থিক সমস্যার সমাধান সহজতর হয়।

আশা করি বুঝতে পেরেছ কেন আমি পরীক্ষার পর বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তোমার পরিকল্পনা জানিয়ে চিঠি লিখো। ভালো থেকো। 
তোমার শুভাকাক্সক্ষী
সুব্রত


তোমার গ্রামকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে তুমি যেমন ভ‚মিকা পালন করবে তার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুকে একটি পত্র লেখো।  

রামপুরা, ঢাকা-১২১৯
৪ঠা জানুয়ারি, ২০১৬

প্রিয় কমল
শুভেচ্ছা নিয়ো। আশা করি ভালোই আছ। পথশিশুদের লেখাপড়া নিয়ে কাজ করছো শুনে খুব ভালো লাগল। তোমার মতোই আমিও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সে সম্পর্কে জানাব বলেই আজ লিখছি।
নিরক্ষরতার কুফল সম্পর্কে তোমার নিশ্চয়ই ভালো ধারণা আছে। এই অভিশাপ থেকে আমার প্রিয় গ্রামকে মুক্ত করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। আশা করি আমার কাজটি সম্পর্কে জানলে তুমি খুশি হবে এবং নিজেও অনুপ্রাণিত হবে।

আমার প্রিয় গ্রামটি নিরক্ষরতার অভিশাপে অন্ধকারাচ্ছন্নতা এ বিষয়টি সত্যিই খুব হতাশাজনক। তাই আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যেভাবেই হোক গ্রামকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করব। এজন্য গ্রামের শিক্ষিত ও সমাজসেবী মানুষদের সাথে কথা বলি। তাঁরা আমাদের উদ্দেশ্যের কথা শুনে খুব খুশি হলেন এবং নানা রকম পরামর্শ দিলেন। আমরা আমাদের গ্রামের স্কুল মাঠের একটি পাশে নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করেছি। গ্রামের নিরক্ষর পুরুষ, ছেলে, বউ-ঝিরা পড়ালেখা করতে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে নৈশ বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেন। আমরা বন্ধুরা প্রত্যেকেই নিজেদের অবস্থান থেকে নিরক্ষরতামুক্ত আন্দোলনে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করছি। লেখাপড়ার প্রতি মানুষের এমন ইচ্ছাশক্তির উদাহরণ আমাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। আমাদের এখানে এসে বেড়িয়ে যাও। কোনো পরামর্শ থাকলে জানিয়ো। আজ আর নয়। উত্তর দিয়ো।

ইতি
তোমার বন্ধু
ইউসুফ


নিয়মিত লেখাপড়া করার উপদেশ দিয়ে/ভবিষ্যতে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার উৎসাহ দিয়ে তোমার ছোট ভাই-বোনের কাছে পত্র লেখো।


আজিমপুর, ঢাকা
১৫ই মে, ২০১৬

স্নেহের আমান,
আমার ভালোবাসা রইল। গতদিন মায়ের লেখা একটা চিঠি পেলাম। মা জানিয়েছেন পড়াশোনায় তোমার মন নেই। তোমার সম্পর্কে এমনটা শুনব আশা করিনি। তোমাকে ঘিরে আমাদের সবার অনেক আশা-ভরসা। 

লেখাপড়া সম্পর্কে সবচেয়ে বড় কথা হলো এটি কেউ কাউকে দান করতে পারে না। নিজের আগ্রহেই একে অর্জন করে নিতে হয়। মুখস্থ বিদ্যার জোরে পরীক্ষায় কেবল পাস করা যায়। কিন্তু তাতে প্রকৃত জ্ঞান তোমার ভেতর সঞ্চিত হবে না। সুতরাং যেটুকু পড়বে মন দিয়ে পড়বে। সারাবেলা তোমাকে বই নিয়ে বসে থাকার পরামর্শ আমি দিচ্ছি না। কেননা মন থেকে পড়তে না বসলে সে পড়াশোনা দিয়ে কোনো লাভ নেই। লেখাপড়ার বিষয়টাকে তুমি আনন্দের সাথে নাও-এই আমার কামনা। তোমাকে আমি নানা সময় ছোটদের উপযোগী কিছু বই পাঠাই। সে বইগুলো যেমন মজার, তেমনি শিক্ষণীয়। অবসরে এই বইগুলো পড়ে দেখো। দেখবে পাঠ্য বইয়ের প্রতিও তোমার আগ্রহ তৈরি হবে। বন্ধুদের সাথে মিলেমিশে পড়াশোনা করলেও ভালো ফল পাবে। তবে এক্ষেত্রে সঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক থাকা চাই।

তোমার জেএসসি পরীক্ষার তো আর মাত্র তিন মাস বাকি। তাই পড়া জমিয়ে না রেখে নিয়মিত পড়াশোনা করো। অনেক শিক্ষার্থীই সময়ের পড়া সময়ে না পড়ে তা জমিয়ে রাখে। পরে পরীক্ষা চলে এলে সিলেবাস সম্পূর্ণ শেষ করতে না পেরে নকলের মতো জঘন্য পথ বেছে নেয়। নকল করে অনেক সময় পরীক্ষা পাসের সার্টিফিকেট পাওয়া গেলেও, ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে তা কোনো কাজে আসে না। তোমার প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, এ বিষয়ে তুমি বেশ সচেতন।
সবশেষে বলতে চাই, পরিশ্রম ছাড়া জীবনে উন্নতি করার বিকল্প কোনো উপায় নেই। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী নয়, জীবনের কোনো কাজেই সে সফলতা লাভ করতে পারে না। তাই আমাদের সকলের উচিত অধ্যবসায়ের মতো এই মহৎ গুণটিকে আয়ত্ত করা। এর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আশা করি এখন থেকে তুমি পড়াশোনার প্রতি যত্নবান হবে। আব্বু-আম্মুর প্রতি খেয়াল রেখো। তোমার পরীক্ষার আগেই বাড়ি আসব। আজ এখানেই শেষ করছি।

ইতি
তোমার বড় বোন
কবিতা


পরীক্ষায় কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে তোমার বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো। 


বগুড়া সদর
২৫শে মে, ২০১৬

প্রিয় কাঞ্চন,
প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিয়ো। এসএসসি পরীক্ষায় তোমায় গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার খবর শুনে আমি অত্যন্ত উচ্ছ¡সিত। এমন গৌরবোজ্জ্বল ফল অর্জন করায় তোমাকে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। 
তোমার মতো ফল আমি করতে পারিনি। তবে যেটুকু হয়েছে তাতেই আমি খুশি। আমি পেয়েছি ৪.৮৮। তোমার ফলাফলের কথা শুনে বাবা-মাও খুব খুশি হয়েছেন। আমার মনে হয় তোমার এই সাফল্য তোমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সামনের দিনে অপেক্ষা করছে কঠিনতর চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার জন্য তোমাকে পরিশ্রমের ধারাটি অব্যাহত রাখতে হবে। দৃঢ়সংকল্প ও পরিশ্রমের জোরেই যে জীবনে সফলতা আসে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তো তুমি নিজেই। তুমি তোমার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছ। আমি আশা করেছিলাম যে, পরীক্ষায় তুমি অবশ্যই দারুণ ফলাফল করবে। আমার কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে। তুমি তোমার পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছ।

তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম জানাবে। তোমার ভবিষ্যৎ জীবন আরও সুন্দর ও সফল হোক। এই কামনা করে শেষ করছি। ভালো থেকো।

ইতি
তোমার বন্ধু
সাগর


তোমার দেখা একটি বিজ্ঞান মেলার বর্ণনা দিয়ে বন্ধুকে পত্র লেখো। 

জামালপুর

প্রিয় অসীম
কেমন আছ বন্ধু? আমার খবর ভালো। তবে গত সপ্তাহটি পার করেছি ভীষণ ব্যস্ততায়। আমাদের স্কুলে আয়োজন করা হয়েছিল সপ্তাহব্যাপী একটি বিজ্ঞান মেলার। তার খবর জানাতেই তোমাকে আজ লিখছি।
মেলায় বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজেদের তৈরি বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজেক্ট প্রদর্শন করে। মেলা উপলক্ষে পুরো স্কুল ভবনকে সাজানো হয়। প্রতিদিন বিকাল ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী খোলা রাখা হয়। আমরা বিভিন্ন স্টলে নিজ নিজ প্রদর্শনী বস্তু নিয়ে প্রদর্শন শুরু করি। আমি আমার অটোমেটিক লাইট ডিটেক্টর যন্ত্রটি প্রদর্শন করি এবং বিচারকগণের রায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করি।
উক্ত প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক। তিনি সবগুলো স্টল পরিদর্শন করেন এবং আমাদের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। শেষ দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমাদের প্রধান শিক্ষক এতে সভাপতির আসন অলংকৃত করেন। প্রদর্শনী সফল হওয়ার জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ঘোষণা দেন যে, এখন থেকে নিয়মিতভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এ বছর দশটি স্কুল এতে অংশ নেয়। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করি।
আজ এ পর্যন্তই। তোমার আব্বা-আম্মাকে আমার সালাম দেবে। আর ছোট ভাইবোনদের দেবে অনেক অনেক আদর। তোমার গাছগুলোর কী খবর? চিঠিতে জানিয়ো।

ইতি
তোমার বন্ধু
পুনম


তোমাদের বিদ্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিবরণ দিয়ে বন্ধুর কাছে পত্র লেখো।

পরশুরাম, ফেনী
১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১৬

প্রিয় মারুফ,
তোমার চিঠি পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছি। তোমার ভ্রমণের বৃত্তান্ত পড়ে খুব ভালো লাগল। গত সপ্তাহে আমাদের স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই কথা জানাতেই এই চিঠি।
প্রায় এক মাস আগে থেকে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রতিটি ক্লাস থেকে বিভিন্ন ইভেন্টের জন্য প্রতিযোগী বাছাই করা হয়। এ কটা দিন সব ছাত্রছাত্রীই প্রচণ্ড উৎসাহ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছে। সবার এক চিন্তা- বাছাইপর্বের চেয়ে ভালো করতে হবে। যা হোক, অবশেষে এলো সেই প্রতীক্ষিত দিন। সকাল আটটায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সাথে সাথে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর প্রজ্জ্বলিত হয় অলিম্পিক মশাল। মাননীয় প্রধান অতিথি তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণ শেষে শান্তির প্রতীক শ্বেত কপোত ও রঙবেরঙের বেলুন মুক্তাকাশে উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ৮টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয় ক্রীড়া প্রতিযোগীদের মার্চপাস্ট। সকাল ৯টায় শুরু হয় মূল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন আমাদের ক্রীড়াবিষয়ক শিক্ষক। তাঁকে সহযোগিতা করে রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির সদস্যরা। মোট ১৫টি ইভেন্টে ১২০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। এদের মধ্যে ছাত্র ৭২ জন এবং ছাত্রী ৪৮ জন। দৌড়, হাইজাম্প, লংজাম্প, গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, বর্শা নিক্ষেপসহ প্রায় সবগুলো ইভেন্টেই দারুণ প্রতিদ্বদ্বিতা।
সবচেয়ে মজার ইভেন্টটি ছিল আমন্ত্রিত অতিথি ও স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে রশি টানাটানি খেলা। খুব হৈ-হুল্লোড়ের মাঝে অতিথিরাই জিতে যান। আমন্ত্রিত মহিলাদের জন্য ছিল মিউজিক্যাল চেয়ার। এটাতেও খুব মজা হয়। ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরেকটি ব্যতিক্রমী ইভেন্ট ছিল ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’। বছরের এই একটি দিনের সুযোগ অনেকেই কাজে লাগিয়ে ইচ্ছেমতো সেজেছিল। বিকেল ৫টায় পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার। সবাই পুরস্কার পায়নি, কিন্তু কারো মুখেই পরাজিত হওয়ার কোনো গ্লানি ছিল না। এটিই হলো খেলাধুলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ শিক্ষা। আমি ২০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়ে ২য় স্থান অধিকার করেছি।
আজ এখানেই ইতি টানছি। তোমার কাছে নতুন কোনো বই থাকলে জানিয়ো। ভালো থেকো। 

ইতি
তোমারই
আফসান


সংবাদপত্র পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তোমার বন্ধুর কাছে একটি পত্র লেখো।  অথবা, সংবাদপত্র পাঠের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তোমার বন্ধুকে একটি পত্র লেখ।  

২০.০৫.২০১৬
ঢাকা।

প্রিয় আমান,
আশা করি ভালো আছো। আমার খবর ভালো। আমি জানি, তুমি প্রচুর বই পড়ো। শুধু বই পড়লেই হবে না বিশ্বের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও জানতে হবে। কেবল পাঠ্যবই পড়লেই জ্ঞান অর্জন করা যায় না। একজন মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হতে হলে তাকে সব বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হয়। আর সেটি অর্জন করার অন্যতম উপায় সংবাদপত্র পাঠ করা। সংবাদপত্র পাঠ করলে তুমি অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ, স্বদেশ-বিদেশসহ সব রকম তথ্য জানতে পারবে। দেখবে সে এক মজার তথ্য-জগৎ। নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ তোমার মেধাকে শানিত করবে। তুমি একজন প্রকৃত ও পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারবে। এজন্য তুমি নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ করো। এতে তোমার জানার পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
আসলে সংবাদপত্র পাঠ আমাদের প্রত্যেকটি সচেতন মানুষের জন্যই অতীব প্রয়োজন। আশা করি এ প্রয়োজনীয়তা তুমিও উপলব্ধি করতে পেরেছ।
আজ এখানেই শেষ করলাম। ভালো থেকো।

ইতি
তোমার বন্ধু
কামাল


নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য কেমন আয়োজন চলছে তা জানিয়ে বন্ধুকে একটি পত্র লেখো।

২৫.০২.২০১৬
আল্লারদর্গা, কুষ্টিয়া

প্রিয় জুয়েল,
আশা করি ভালো আছো। শুনে খুশি হবে আসছে পহেলা বৈশাখে আমাদের স্কুল থেকে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আমাদের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে থাকবে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠান ইত্যাদি। আবৃত্তি অনুষ্ঠানে আমি একটি কবিতা আবৃত্তি করব। তাছাড়া সংগীত সন্ধ্যায় আমরা সমবেত কণ্ঠে সূচনা সংগীত হিসেবে পরিবেশন করব “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো” গানটি। আমাদের অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধান অতিথি থাকবেন মাননীয় জেলা প্রশাসক ও বিশেষ অতিথি থাকবেন আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহোদয়।
অনুষ্ঠানের শেষ দিন পুরস্কার বিতরণীর ব্যবস্থা রয়েছে। নববর্ষ উদ্যাপনকে সামনে রেখে আমাদের বিদ্যালয় ভবন ও প্রাঙ্গণ নতুন সাজে সাজানো হবে। ঐ দিন আমরা সবই নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে একত্রিত হব। ছোট-বড় সবাই মিলে মজা করব এবং পান্তা ভাত ও ভাজা ইলিশের আয়োজন করব। এই আয়োজনে তোমারও নিমন্ত্রণ রইল। আজ এখানেই শেষ করছি। তাড়াতাড়ি চিঠি পাঠিয়ো।

ইতি
তোমার বন্ধু
রানা


মনে করো, তোমার নাম নিলয়। তোমার বন্ধুর নাম সাগর। সে খুলনায় থাকে। বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তার কাছে একটি পত্র লেখ। 

১৩.০৭.২০১৬
পল্লবী, ঢাকা

প্রিয় সাগর,
কেমন আছ? অনেক দিন হলো তোমার কোনো খবর পাই না। গতকাল আমাদের স্কুলে ‘বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে একটি সেমিনার হয়ে গেল। সেই সেমিনারেই বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক কথা শুনলাম। তোমাকে সে সম্পর্কে জানাতেই এ চিঠি লিখতে বসেছি।
তুমি তো জানো, গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করি, কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি। আর গাছ আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিষাক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে নেয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু মানুষ তার প্রয়োজনে প্রচুর গাছ কাটছে। বন উজাড় হচ্ছে। তাতে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মূল ভূখণ্ডের কমপক্ষে পঁচিশ ভাগ বন থাকা দরকার। আমাদের দেশে তা নেই। যেটুকু আছে তা-ও নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। সভ্যতা ও উন্নয়নের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে কলকারখানা। রাস্তায় যানবাহনের চলাচল বাড়ছে। কলকারখানা ও গাড়ির ধোঁয়ায় বাতাসে বাড়ছে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ। কমছে বাতাসের ওজোন স্তর। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে গ্রিনহাউস ইফেক্ট। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। দেখা দিচ্ছে নানা রোগ-ব্যাধি। এসবই ঘটছে বাতাসে অক্সিজেনের অভাবের কারণে। তাই বেশি বেশি গাছ লাগালে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ হবে। প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরে আসবে। পরিবেশ দূষণমুক্ত হবে। তাছাড়া আমাদের জ্বালানির চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ হয় বৃক্ষের মাধ্যমে। কাঠ থেকে আমরা বাড়িঘর এবং আমাদের প্রয়োজনীয় আসবাব প্রস্তুত করে থাকি। সুতরাং ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখনই আমাদের অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন। বাড়ির চারপাশে, রাস্তার দুপাশে, পতিত জমিতে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে আরো সচেতন করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, বৃক্ষ বাঁচলেই আমরা বাঁচব। 
আজ এই পর্যন্তই। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম জানিয়ো। চিঠি দিয়ো।

ইতি-
তোমার বন্ধু
নিলয়


কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করে তোমার বন্ধু অভ্রকে একটি চিঠি লেখো। 

১৭.০৭.২০২২
শাসনগাছা, কুমিল্লা।

প্রিয় অভ্র,
আমার শুভেচ্ছা নিয়ো। অনেক দিন পর তোমার চিঠি পেলাম। তুমি ক্লাসে প্রথম হয়েছ জেনে খুব আনন্দিত হয়েছি। আমি আরো খুশি হয়েছি তুমি ক্লাসের পড়াশোনার বাইরে কম্পিউটার শিখছ বলে।
বর্তমান যুগ হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। আর প্রযুক্তির এ যুগে সর্বোচ্চ স্থান দখল করে আছে কম্পিউটার। কম্পিউটার ছাড়া আধুনিক জীবন-যাপন কল্পনা করা যায় না। এর ব্যবহারে সব ধরনের কাজ তুলনামূলক কম সময়ে ও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, চিকিৎসা, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ব্যবহার আজ অপরিহার্য। তাই কর্মক্ষেত্রেও এখন কম্পিউটার জানা লোকদের অগ্রাধিকার। কম্পিউটার-অভিজ্ঞ লোক কখনো বেকার বসে থাকে না। তাই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আমাদের প্রত্যেকের উচিত অন্যান্য বিষয়ের সাথে কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। বর্তমানে পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনা ভালোভাবে আত্মস্থ করার কাজে অগ্রসর শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের সাহায্য নিচ্ছে। তাছাড়া পাঠ্যবইয়ের বাইরেও নানা সৃজনশীল কাজেও এটি ব্যবহার করতে পারছে। তুমি ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার ভালোভাবে আয়ত্ত করবে, আমার এই শুভকামনা রইল। 
আজ আর নয়। মা ও বাবাকে আমার সালাম দিয়ো। তুমি ভালো থেকো।

ইতি-
তোমার বন্ধু
রাজন


মনে করো, তুমি কাজল। তোমার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে জানিয়ে বাবার কাছে একটি পত্র লেখো।

এপ্রিল ২৫, ২০১৬

বাজিতপুর 
শ্রদ্ধেয় বাবা,
সালাম নিন। আশা করি ভালো আছেন। গতকাল আপনার চিঠি পেলাম। আপনার আসতে দেরি হবে জেনে মনটা খুব খারাপ হলো। 
আজ আমার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। আমার ফল জেনে আপনি নিশ্চয়ই খুশি হবেন। আমি গোল্ডেন A+ পেয়েছি। দোয়া করবেন, আমি যেন ভবিষ্যতে আপনার মুখ উজ্জ্বল করতে পারি। 
আপনাকে অনেক দিন দেখিনি। আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। ছুটি নিয়ে দুটো দিনের জন্য হলেও আমাদের সঙ্গে দেখা করে যান। আমরা আপনার অপেক্ষায় রইলাম। 
বাড়ির সবাই ভালো আছে। আপনি শরীরের প্রতি যত্ন নেবেন। ভালো থাকবেন। 

ইতি-
তোমার শুভার্থী
কাজল


মনে করো, তোমার নাম খসরু। তোমার বড় বোনের বিয়ের দিন ঠিক করা হয়েছে। তোমার প্রিয় বন্ধু হামিদকে এ উপলক্ষে একটি চিঠি লেখো।

২৫শে মার্চ, ২০১৬
পূর্ব ঘোপাল, ফেনী

প্রিয় হামিদ,
শুভেচ্ছা নিয়ো। আশা করি ভালো আছ। তোমাকে আজ একটা সুখবর দেওয়ার জন্য লিখছি। আগামী ১০ই এপ্রিল আমার বড় আপার বিয়ের দিন ঠিক হয়েছে। ৯ তারিখ গায়েহলুদ আর ১২ তারিখ বৌভাত অনুষ্ঠিত হবে। আপার বিয়ের সব আয়োজনের দায়িত্ব পড়েছে আমার ওপর। তুমি অবশ্যই আসবে। মা, আপা সবাই তোমাকে আসতে বলেছেন। তুমি কিন্তু ৭ তারিখের মধ্যেই চলে আসবে, কেমন? অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের সব বন্ধুই আসছে। খুব মজা হবে। 
আজকের মতো বিদায়। সাবধানে এসো।

ইতি
তোমার বন্ধু
খসরু


মনে করো, তুমি ফরহাদ। গ্রীষ্মের ছুটি কীভাবে কাটাবে তা জানিয়ে তোমার বন্ধু শফিককে একটি চিঠি লেখো।

১০/০৪/২০১৬
বয়রা, খুলনা

প্রিয় শফিক,
ভালোবাসা নিয়ো। তোমার চিঠি পেয়ে খুব আনন্দিত হয়েছি। তোমার সাথে কতদিন দেখা হয় না। যা হোক, তোমাকে একটা খুশির খবর দিই। এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে আমাদের বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে। ঠিক করেছি আমি বাংলাদেশের বিখ্যাত কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনায় বেড়াতে যাব। তুমি তো জানোই ইতিহাস আর ভূগোল সম্পর্কে আমার অনেক আগ্রহ। এ কারণেই ভাবছি মা-বাবার সাথে এই ছুটিতে সোনারগাঁ ও  পাহাড়পুর যাব। এ দুটিই আমাদের দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। বইয়ে এ দুটো জায়গার কথা অনেক পড়েছি। নিজের চোখে দেখতে পেলে সেই জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করবে। স্থানগুলোতে গেলে বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে। তুমিও চলোনা আমাদের সাথে। খুব মজা হবে।
ভালো থেকো। তোমার মতামত জানিয়ো।

ইতি
তোমার শুভার্থী
ফরহাদ


মনে করো, তোমার নাম অহনা/অহন। তোমার কলকাতা প্রবাসী এক বন্ধুর নাম বাদল/বৃষ্টি। ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে তুমি যা জানো তা তোমার বন্ধুকে জানিয়ে একটি চিঠি লেখো। ধরো, তোমার বন্ধুকে লেখার ঠিকানা- ৩৬, সল্ট লেক, কলকাতা, ভারত।

২২শে ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
মহিষাকান্দি, নরসিংদী।

প্রিয় বাদল, 
কেমন আছ? আমি ভালোই আছি। কাল ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালির জীবনে এ দিনটি অত্যন্ত গৌরবমণ্ডিত ও তাৎপর্যপূর্ণ। আজ তোমাকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানিয়ে লিখছি। ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঘোষণা দেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বাংলার ছাত্রসমাজ। ২১শে ফেব্রুয়ারি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ঢাকায় ১৪৪ দ্বারা জারি করা হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারির দিনে স্বোলগানে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে। সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারার পরোয়া না করেই এগিয়ে যায় ছাত্র-জনতা। পুলিশের গুলিতে রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে শহিদ হন। এ ঘটনা সারা দেশের মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। রাস্তায় নেমে আসে সর্বস্তরের লাখো জনতা। অবশেষে ভাষাশহিদদের জীবনের বিনিময়ে আমরা পাই মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার। তাই একুশ আমাদের অহংকার। আমাদের দৃপ্ত চেতনার অগ্নিমশাল।
তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম জানিয়ো। আজ বিদায় নিচ্ছি। 

ইতি 
তোমার বন্ধু
অহনা


মনে করো, তোমার নাম পল্লব/পলি। জন্মভ‚মির প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়ে তোমার আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো। ধরো, তোমার বন্ধুর নাম ড্যানিয়েল/ডোরি। তার ঠিকানা- ২৪ ডাউনিং স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, আমেরিকা।

প্রিয় ড্যানিয়েল,
কেমন আছ বন্ধু? গত চিঠিতে তুমি জন্মভ‚মি সম্পর্কে আমার অনুভ‚তির কথা জানতে চেয়েছ। আজ সে কথা জানিয়ে তোমাকে লিখছি। 
পৃথিবীর সব মানুষের মনেই জন্মভ‚মির জন্য আলাদা একটা টান থাকে। আমার দেশের প্রতিও আমি গভীর মমতা অনুভব করি। আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর। মন ভোলানো এর প্রকৃতি। সারা দেশে সবুজের ছড়াছড়ি। নদী, পাহাড়, সমুদ্র সবই আছে এদেশে। আর আছে নানা ধর্ম, পেশা ও সংস্কৃতির মানুষ। সকলেই এদেশে মিলেমিশে বসবাস করে। এই সবকিছুই আমাকে প্রচণ্ডভাবে আকর্ষণ করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ত্রিশ লক্ষ মানুষ সে যুদ্ধে শহিদ হয়েছে। এদেশকে নিয়ে তাই আমাদের অহংকারের শেষ নেই। বাংলাদেশে জন্ম নিতে পেরে আমি গর্বিত। দেশকে আমি আমার মায়ের মতোই ভালোবাসি। 
আজ আর নয়। তোমার দেশের কথা জানিয়ে আমাকে চিঠি দিয়ো। 

ইতি
তোমার বন্ধু 
পল্লব 


মনে করো, তোমার নাম সাকিব/সালমা। তোমার বন্ধুর নাম অয়ন/আয়না। সম্প্রতিক তুমি একটি স্থান থেকে বেড়িয়ে এসেছ। সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তোমার বন্ধুকে একটি পত্র লেখো।  

১৭/০২/২০১৬
মালিবাগ, ঢাকা।

প্রিয় অয়ন,
শুভেচ্ছা নিয়ো। আশা করি ভালো আছ। ছুটি কেমন কাটল? আমার কিন্তু দারুণ কেটেছে। কারণটা বলছি, শোনো। গত সপ্তাহে বাবা-মায়ের সাথে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে ঘুরে এসেছি। দারুন মজা হয়েছে। ঢাকা থেকে ট্রেনে চড়ে প্রথমে গিয়েছি চট্টগ্রাম। ট্রেনে চেপে এটাই আমার প্রথম ভ্রমণ। কী যে ভালো লেগেছে বলে বোঝানো যাবে না। চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে টেকনাফ। তারপর জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছেছি। সমুদ্রের বুকে জাহাজে চড়ার অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অসাধারণ। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে থাকা পাহাড়গুলোর সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। আর সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য তো বলে বোঝানোর মতো নয়। সাগরের স্বচ্ছ নীল পানি, রাতের আকাশে হাজার তারার মেলা, সৈকতে ঘুরে বেড়ানো নানা রঙের কাঁকড়া, সূর্যোদয়ের দৃশ্য ইত্যাদি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। অনেক রকমের সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিয়েছি। আর খেয়েছি সেন্টমার্টিনের সুমিষ্ট ডাবের পানি। সেন্টমার্টিনের অদূরেই আছে ছেঁড়াদ্বীপ। ট্রলারে চড়ে সেখানেও গিয়েছি। উত্তাল সমুদ্রের মাঝে ট্রলারটি বিপজ্জনকভাবে দুলছিল। ক্ষণে ক্ষণে তা মনের ভেতর উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ সৃষ্টি করছিল। সেন্টমার্টিনে আমরা দুই দিন ছিলাম। ফেরার পথে টেকনাফ এসে বাসে চড়ে সরাসরি ঢাকায় ফিরেছি। সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের স্মৃতি ভোলার মতো নয়।
আজ বিদায় নিচ্ছি। তোমার ময়না পাখিটার কী খবর? ভালো থেকো।

ইতি
তোমার বন্ধু
সাকিব


মনে করো, তোমার নাম হাসনা/সেলিম। তোমার ছোট ভাইয়ের নাম আকাশ। স্বাধীনতা দিবস কীভাবে উদ্যাপন করেছ সে সম্পর্কে জানিয়ে তাকে একটি পত্র লেখো।

২৯/০৩/২০১৬
সাভার, ঢাকা।

আদরের আকাশ,
কেমন আছ? বাড়ির সবাই ভালো তো? তোমার বিড়ালটা কত বড় হলো? ২৬ তারিখ ছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। নানা রকম অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের সবাই মিলে এ দিবসটি উদ্যাপন করেছি। দিনটি উপলক্ষে আমরা পুরো স্কুল কাগজের পতাকা দিয়ে সাজিয়েছিলাম। সবাই মিলে স্কুলের বিভিন্ন দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কয়েকটি ছবি এঁকেছি। সব মিলিয়ে পুরো স্কুলটি দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল। সকালবেলা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখানে আমরা ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। স্মৃতিসৌধের আশপাশের স্থানগুলো ঘুরে দেখি। দুপুর থেকে স্কুলে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা আবৃত্তি, নাচ, গান, নাটিকা ইত্যাদি উপস্থাপন করে। আমিও একটি কবিতা আবৃত্তি করি। বিকেলে অডিটোরিয়ামের বড় পর্দায় দেখানো হয় ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রটি। দেখে খুব ভালো লাগল। সব মিলিয়ে খুব আনন্দময় একটি দিন কেটেছে। 
আজ আর নয়, গরমের ছুটিতে বাড়ি আসছি। মন দিয়ে লেখাপড়া করো। আম্মার কথা শুনো। 
ইতি
তোমার বড় বোন
হাসনা


সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বন্ধুকে সমবেদনা জানিয়ে একটি চিঠি লেখো।

০৫/০২/২০১৬
হালিশহর, চট্টগ্রাম

প্রিয় রাজীব,
সড়ক দুর্ঘটনায় তুমি আহত হয়েছ শুনে ভীষণ চিন্তিত আছি। আজ সকালে তুষার ফোন করে জানাল যে, তুমি রিক্শা উল্টে পড়ে গিয়েছ। ডান হাত আর ডান পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছ। শুনে খুব কষ্ট পেলাম। আশা করি, জখমগুলো শরীরের কোনো স্থায়ী ক্ষতি করবে না। পা এক্স-রে করেছ কি? ডাক্তার কী বলেছেন? ওখানে যদি ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা না হয়, তবে দ্রুত চট্টগ্রাম চলে এসো। আমার মামা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বোন্-স্পেশালিস্ট। মামাকে আমি তোমার কথা বলে রাখব, কোনো সমস্যা হবে না। সরাসরি আমাদের বাসায় এসে উঠবে। কোনো দ্বিধা করবে না। আমার মনে হয়, ভয়ের কিছু নেই। এখন চিকিৎসা-ব্যবস্থা অনেক উন্নত। দরকার শুধু সময়মতো ডাক্তারের কাছে যাওয়া। আশা করি, পরম করুণাময়ের কৃপায় তুমি দ্রæত সুস্থ হয়ে উঠবে। আমাদের ফোন নম্বর তো তোমার জানা। প্রয়োজনে ফোন করো। তুমি দ্রæত ভালো হয়ে ওঠো, এটাই কামনা করি। 
ইতি-
তোমার বন্ধু
মামুন


এসএসসি পরীক্ষার পর অবসর দিনগুলো কীভাবে কাটাবে জানিয়ে বন্ধুর কাছে একটি পত্র লেখো।

০৫.০১.২০২২
কুড়িগ্রাম

প্রিয় হানিফ,
শুভেচ্ছা নিস। অনেকদিন পর তোর চিঠি পেলাম। চিঠিতে তুই জানতে চেয়েছিস, আসন্ন পরীক্ষার পর কী করব? কেন, তোর কোনো পরিকল্পনা আছে নাকি? সিঙ্গাপুর, কলকাতা, কাঠমান্ডু কিংবা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আনন্দভ্রমণে যাওয়ার প্ল্যান? আসলে পরীক্ষার পর তিনমাস সময়টা যে খুব দীর্ঘ তা নয়। দেখতে দেখতে হয়তো কেটে যাবে। তবে আমি এই সময়টা কাজে লাগাতে চাই। নিরর্থক আনন্দভ্রমণের চেয়ে আমি বরং সময়টাকে অর্থময় করে তুলতে চাই।
প্রথমে আমার ইচ্ছে, পরীক্ষার পর কিছুদিন আমি গ্রামের বাড়িতে কাটাব। সেখানে আমার একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা গ্রামের বন্ধুরা মিলে ১০০০টি ফলজ, বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করব। চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে আমাদের গ্রামের যে নতুন রাস্তাটা হয়েছে, তার দুপাশে গাছগুলো লাগাব। কয়েকদিন গ্রামের বাড়িতে থাকাও হবে, আর বন্ধুদের নিয়ে গ্রামের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগবে। আমাদের দেশে যে হারে বৃক্ষনিধন চলছে, তাতে পরিবেশ বিপর্যয় অত্যাসন্ন।

তারপর ঢাকায় আমার বড়মামার বাসায় কিছুদিন বেড়াব। ঢাকার বেশকিছু দর্শনীয় স্থান আমার দেখা হয়নি। মামা-মামি কতবার যেতে বলেছেন। কিন্তু পড়াশোনার জন্যে এতদিন যাওয়া হয়নি। ভাবছি মামার বাসায় বেড়ানো হবে, দর্শনীয় স্থানও দেখা হবে। আপাতত পরিকল্পনা হচ্ছে, ঢাকার রায়েরবাজারে অবস্থিত শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিল দেখা। সম্ভব হলে ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত সোনারগাঁও পরিদর্শন করব।
তুই তো জানিস, আমার বড়মামা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমার মেঝমামাকে পাকিস্তানি আর্মিরা গুলি করে হত্যা করেছে। এসব আমার জন্মেরও আগের কথা। মায়ের মুখে মেজমামার নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা শুনতে শুনতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জন্মে গেছে। তাই প্রথমে রায়েরবাজারের বধ্যভ‚মি ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখতে যাব। তারপর অন্যান্য জায়গা। মোটামুটি এই আমার পরিকল্পনা। ইচ্ছে করলে তুইও সঙ্গে যোগ দিতে পারিস।
আমার পরিকল্পনা তো জানালাম। এবার তোর অবসর কাটানোর পরিকল্পনা লিখে জানা। চাচা ও চাচিকে আমার সালাম দিস। তোর সুন্দর, বিকশিত জীবন কামনা করে আজকের মতো শেষ করছি।
শুভেচ্ছান্তে
সালমান


ছাত্রজীবনে শিক্ষামূলক সফরের উপকারিতা বর্ণনা করে বন্ধুর কাছে একটি পত্র লেখো।

২৪/৪/২০১৬
নীলফামারী

প্রিয় অরুণ,
শুভেচ্ছা নিও। আশা করি বাড়ির সবাইকে নিয়ে ভালো আছ। আমরাও খোদার কৃপায় ভালো আছি। গত সপ্তাহে আমাদের স্কুলের সবাই মিলে ইতিহাসখ্যাত বগুড়া মহাস্থানগড় শিক্ষাসফরে গিয়েছিলাম। তোমাকে আজ লিখছি আমাদের সেই শিক্ষাসফর সম্পর্কে।  
সেদিন সকাল সাড়ে আটটায় স্কুল ক্যাম্পাস থেকে আমাদের বাস ছেড়েছে। গিয়ে পৌঁছতে পৌঁছতে দুপুর একটা। শিক্ষাসফরে যাব বলে সবার মাঝে ছিল দারুণ আনন্দ। মহাস্থানগড়ের প্রাচীন পুরাকীর্তি, বৌদ্ধযুগের স্থাপত্য নিদর্শন ও ভাস্কর্য সম্পর্কে বইতে শুধু পড়েছি। সেখানে দাঁড়িয়ে যখন সেই লুপ্তপ্রায় ইতিহাসের কথা আমাদের মমতাজ ম্যাডাম বলতে শুরু করলেন, কল্পনায় আমি যেন মুহূর্তে ফিরে গেলাম অতীতের সেই সমৃদ্ধ যুগে।
আমি উপলব্ধি করলাম, আসলে শুধু বই পড়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করা কখনো সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে শিক্ষাসফরে যাওয়া উচিত। এতে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক যেমন গড়ে উঠতে পারে, তেমনি বইতে পড়া ইতিহাস সম্বন্ধেও আমাদের অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়।
বাস্তব শিক্ষার জন্য আসলে শিক্ষাসফরের কোনো বিকল্প নেই। তাই জীবনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্যে শিক্ষাসফরের খুবই প্রয়োজন। এতে আনন্দও হয়, আবার বাস্তবতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানা ও বোঝার সুযোগ ঘটে। 
আজ আর নয়। ভালো থেকো।

ইতি-
তোমার বন্ধ
চয়ন

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.