আমাদের সাইটের নতুন আপডেট পেতে এ্যাপ্স ইন্সটল করে রাখুন Install Now!

পড়াশোনার কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি - Some effective methods of studying

পড়াশোনার কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি - Some effective methods of studying
Join Telegram for New Books
পড়াশোনার কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি - Some effective methods of studying

পড়াশোনার কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি

(toc)

মানুষের জীবনকে সহজ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞান এনে দিয়েছে সমৃদ্ধি আর আরাম। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান সহজ পথ দেখিয়েছে। নিম্নে সফল পড়াশোনায় বিজ্ঞানের সে কার্যকর পদ্ধতি আলোচনা করা হলো ।

এ পদ্ধতিটি হলো ড. ফ্রান্সিস পি রবিন্সের SQ3R পদ্ধতি। যা তিনি ১৯৪১ সালে দিয়েছিলেন । বিগত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উন্নত বিশ্বে পড়াশোনার এ পদ্ধতিটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পদ্ধতিটি একজন ছাত্রকে-

  1. সে কী শিখবে।
  2. কীভাবে পড়ার বিষয়বস্তু দ্রুত ও সহজে বুঝবে।
  3. কোন্টি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে তা মুখস্থ করবে।
  4. পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কীভাবে বারবার রিভিশন করবে তা শেখায়। কছওজ একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। এর বিস্তারিত হলো :
  5. S = Survey বা জরিপ
  6. Q = Question বা প্রশ্ন
  7. R = Read বা পড়া
  8. R = Recite আবৃত্তি করা
  9. R = Review পুনরায় পড়া
পড়াশোনার বহুল ব্যবহৃত এই জনপ্রিয় পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপ নিচে দেয়া হলো।

Survey বা জরিপ

যে কোনো বিষয় ভালোভাবে বুঝতে বা মুখস্থ করতে হলে প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক বা প্রাথমিক মানসিক প্রস্তুতি থাকা দরকার। এ জন্য বিস্তারিত পড়ার আগেই শিরোনাম উপশিরোনামগুলো দেখে নিতে হবে।

এ পর্যায়ে যদি কোনো ছবি বা কার্টুন চোখে পড়ে তবে তার ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা করতে হবে। পাঠ্য বিষয়টির সাথে যদি কোনো সারমর্ম বা মূলবক্তব্য থাকে তবে তা বিষয় বস্তুর গভীরে প্রবেশ করার আগেই জেনে নিতে হবে।

কোনো অধ্যায়ের শেষে অধ্যায়টির সারসংক্ষেপ দেয়া থাকলে তাও পড়ে ফেল। একইভাবে কোনো বইয়ের একটি বিশেষ অধ্যায় পড়তে শুরু হলে এর শুরুর এবং শেষের প্যারাটি পড়ুন।

কোনো ডায়াগ্রাম, সারণি থাকলে তাতে খুব ভালো করে চোখ রাখ। এ পর্যায়টি খুব দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত হওয়া আবশ্যক। এর সময় বড়জোর দু'তিন মিনিট হতে পারে।
 

Question বা প্রশ্ন

একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ যে কোনো একটি বিষয়ের প্রতি একটানা মনোনিবেশ করতে পারে মাত্র ২০ সেকেন্ড হতে ৩০ সেকেন্ড। যদি সে বিষয়টিতে আগ্রহোদ্দীপক কিছু খুঁজে না পায় বা বিষয়টি বুঝতে দুরূহ হয়।

এ সমস্যার সমাধান করা যায় প্রশ্ন তৈরির মাধ্যমে। মনোযোগ বাড়ানোর জন্য এই ধাপে পাঠ্য বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক বা একাধিক প্রশ্ন গঠন করা হয়। এটা ব্যক্তির মধ্যে বিষয়বস্তুটির
বোঝা ও এর সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ায়। ফলে শিক্ষার্থীরা। বিষয়টিতে আরো বেশি করে মনোযোগ সন্নিবিষ্ট করতে পারে।

Read বা পড়া

যে কোনো একটি বিষয় শুধু একবার পড়তে হবে। পরবর্তী বিষয়ে পড়তে যাওয়ার আগেই নিচের ধাপে যেতে হবে। একবার মাত্র পড়ার সময় পূর্ববর্তী ধাপে যে প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছিল পাঠ্য বিষয়ের মধ্যে তার উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

Recite বা আবৃত্তি করা:

পূর্ববর্তী ধাপে একবার মাত্র বিষয়টি পড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছিলো তার উত্তর বা নোট বন্ধ করে মনে মনে স্মরণ করার চেষ্টা করতে হবে। এটা মনে করা যেতে পারে অথবা কাগজে লিখে ফেলা যেতে পারে। যদি দেখা যায়। মনে করা যাচ্ছে না তবে আবার বই বা নোট খুলে দ্রুত পড়ে নিয়ে উত্তরটা খুঁজতে হবে। ছোট ছোট প্রশ্নোত্তর লিখে লিখে এভাবে পড়ার এই পদ্ধতিটি একটি কার্যকর পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একবার বিষয়বস্তুটি সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত্ব হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী বিষয়ে প্রশ্ন গঠন করে সামনের দিকে এগুতে হবে। পরবর্তী বিষয় পড়ার সময় আগের ধাপগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে হবে এবং এভাবে পুরো অধ্যায়টি পড়তে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা রপ্ত করা সম্ভব না হচ্ছে।

Review বা পুনরায় পড়া

পুরো অধ্যায়টি ভালোভাবে রপ্ত হওয়ার পর নিয়মিতভাবে বিষয়বস্তুটির চর্চা রাখতে হবে পরীক্ষার আগ পর্যন্ত, যাতে তা স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে না যায়। এই রিভিউর চর্চাটি আবার করা যেতে পারে প্রাত্যহিক ও সাপ্তাহিক একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে। নিচে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো-

প্রথম দিন। পুরো অধ্যায়টি পড়া এবং রিসাইটের পর যেসব পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সে বিষয়গুলো আন্ডার লাইন বা চিহ্নিত করে মার্জিনে সে প্রসঙ্গে প্রশ্নসমূহ তৈরি করে লিখতে হবে।

দ্বিতীয় দিন: আগে পঠিত এবং টেক্সট বই ও নোট বইয়ের সহায়তায় চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সমূহ পুনরায় দেখতে হবে এবং মনে করার চেষ্টা করতে হবে। টেক্সট বই, নোট বই বা নিজে থেকে লিখিত বিষয়ের ডান পাশের কলামগুলো আড়াল করে বাম পাশের মার্জিনে লেখা প্রশ্নগুলো থেকে নিজেকে প্রশ্ন করো। তারপর উত্তরগুলো মৌখিকভাবে উচ্চারণ করো বা লিখ।

তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম দিন: যেসব প্রশ্ন ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো নিয়ে মৌখিক এবং লিখিতভাবে নিজেকে প্রশ্ন করো এবং পরীক্ষা করো।

সপ্তাহ শেষে: সপ্তাহ শেষে টেক্সট এবং নোট ব্যবহার করে একটি নির্ধারিত অধ্যায় পড়ে তুমি যা জেনেছেন তার টপিক এবং সাব টপিকসমূহের একটি টেবিল বা লিস্ট তৈরি করো এবং এ লিস্ট থেকে একটি স্টাডি শীট তৈরি করো।

অতঃপর স্টাডি শীটে তোমার নিজের ভাষায় যেভাবে বিষয়গুলো লিখেছেন সেভাবেই তা মৌখিকভাবে পাঠ করো বা আবৃত্তি করো। SQ3R পদ্ধতির ধাপগুলো মোটামুটি এই। তুমি যদি এর আগে কখনো এ পদ্ধতিতে পড়াশোনা করার চেষ্টা না করে থাকেন তবে এখন তা একবার করে দেখ। কোনো কিছু পড়ার সময় তোমার বাস্তব জীবন বা অভিজ্ঞতার সাথে ঘটনাকে মিলানোর চেষ্টা করো। প্রশ্নোত্তর হুবহু পাঠ্য বইয়ের ভাষায় বা গাইডের ভাষায় না লিখে নিজের ভাষায় বুঝে লেখার চেষ্টা করো। না বুঝে মুখস্থ করে বুঝে মনে রেখে পড়। দেখবে তোমার চিন্তাশক্তি ও ক্ষমতা বেড়ে গেছে।
Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.