স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে প্রাকৃতিক উপাদান - Natural ingredients to boost memory and intelligence

স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে প্রাকৃতিক উপাদান - Natural ingredients to boost memory and intelligence

স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে প্রাকৃতিক উপাদান

(toc)

পরীক্ষার সময়ে সাধারণত মানসিক চাপ বেড়ে যায়। তাই এ সময়ে শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং মানসিক চাপ কমাতে পরিবারের লোকজন চেষ্টার কমতি করো না। বেশিরভাগ সময় তারা শিশুদের পুষ্টিকর খাবার কিংবা বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে সেসব খাবার দিয়ে থাক। এসব নিয়ে চিন্তিত মা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ভালো খবর হলো যে, আয়ুর্বেদ মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে, পরীক্ষার সময়ে চাপ এবং ভয় কমাতে নির্ভরযোগ্য সমাধান দিতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য কিংবা মনের সুস্থ্য ধারার উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে ইন্দ্রিয়গুলোর অনুভূতির ওপর। ইন্দ্রিয়গুলোর কাজ যেমন- সচেতনতা, তীক্ষ্ণতা, মনোযোগ, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদির ওপর, যা উন্নত স্মৃতিশক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ এর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুর ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধির জন্য অনেক কিছুই দায়ী থাকতে পারে। তবে এগুলোর জন্য প্রাথমিকভাবে অপুষ্টিকে দায়ী করা হয়ে থাকে। অনেক সময় মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতার কারণেও ক্ষীণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী হতে পার যে কেউ। তবে মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে কোনো শারিরীক অসুস্থতা বা ওষুধ এর কারণে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা হয় যে, মাটি এবং পানির (কাফা দোশা) কারণে স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ মাটি এবং পানির দুর্বল অবস্থানই মনমানসিকতা নিস্তেজ করে দেয় এবং কোনো বিষয়ের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি করে। টিপস: স্মৃতিশক্তি এবং বৃদ্ধি বাড়াতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা হলো আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে বায়ু, অগ্নি, পানি এবং মাটি সবগুলোই স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এদিকে বুদ্ধি ও তীক্ষ্ণতা বাড়াতে এগুলোর কোনো বিকল্প নেই।

খাদ্যাভাস:

যদিও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিশেষ ধরণের ব্যক্তিগত খাদ্যাভাসের কথা বলে তবুও মৌলিক কিছু বিষয় না মানলেই নয়। যেমন: 

১) সতেজ এবং সবুজ শাকসবজি, গাজর, ফল, বাদাম, ঘি ইত্যাদি খাবার খেলে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধি বাড়ে।
(২) যতটা সম্ভব মাংস এবং মাখন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
৩) মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। তবে মিষ্টির মধ্যে মধু খাওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
 ৪) কফি কম খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। জীবনযাপন: জীবনযাপনের মাঝে কিছু ছোটখাট পরিবর্তন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন:

১) দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় শারীরিক কাজকর্মের পরিমাণ বাড়িয়ে দাও। এতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২) যেসব শিশু প্রতিদিন ৩০ মিনিট খেলাধুলা করে তাদের বুদ্ধি সাধারণ শিশুদের তুলনায় দ্রুত বাড়ে।
৩) যোগব্যায়াম স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
৪) আয়ুর্বেদের তৈরি ব্রাহ্মি তেল এবং হিমসাগর থাইলাম তেল ম্যাসাজ থেরাপি হিসেবে মানসিক চাপ কমায় এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের ওপর আয়ুর্বেদের এই তেল ম্যাসাজ করে দেখা গেছে যে, তাদের রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরে বিষক্রিয়া থাকে না।

এছাড়া এই থেরাপি উদ্বেগ কমিয়ে দেয় এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে। হারবাল পণ্য প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত হারবাল পণ্যগুলো শিশুর জন্য খুবই ভালো। শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধি করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, বুদ্ধিমত্তা বাড়ায় এবং উদ্বিগ্ন বা দুঃশ্চিন্তা থেকে প্রশান্তি দেয়।

১ ব্রাহ্মি: ব্রাহ্মি মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। রক্তসঞ্চালন দুঃশ্চিন্তা রোধ করে এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা করে।
২ ভৃঙ্গরাজ:  ভৃঙ্গরাজ মানসিক সহনশীলতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তির সঙ্গে বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।
৩ শাঙ্কা পুষ্পি: শাঙ্কা পুষ্পি হারবাল পণ্য মনোযোগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।
৪ ত্রিফলা:  ত্রিফলা বিপাকে, শরীরের কোষ গঠনে এবং মস্তিষ্কে ও কোষের পুষ্টি যোগায়।

যোগব্যায়াম: ব্যায়াম বিশেষ করে যোগব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় যার ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে। যা মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি, দুঃশ্চিন্তা হ্রাস, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে কয়েকধরণের যোগব্যায়াম করা যায়। সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, কোন একটি নির্ধারিত ভেষজ উপাদান বা ওষুধ শিশুর মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি বাড়াতে পারে না। সুষম খাদ্য, সঠিক জীবন শৈলী, ব্যায়াম ইত্যাদির সমন্বয়েই কেবল স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব।
Tags

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !