ভাব-সম্প্রসারণ : বাংলা ২য় পত্র - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা (২য় পর্ব)

 ভাব-সম্প্রসারণ : বাংলা ২য় পত্র - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা (২য় পর্ব)

ভাব-সম্প্রসারণ : বাংলা ২য় পত্র - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা (২য় পর্ব)

কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় কখনো কোনো একটি বাক্যে বা কবিতার এক বা একাধিক চরণে গভীর কোনো ভাব নিহিত থাকে। সেই ভাবকে বিস্তারিতভাবে লেখা, বিশ্লেষণ করাকে ভাব-সম্প্রসারণ বলে। যে ভাবটি কবিতার চরণে বা বাক্যে প্রচ্ছন্নভাবে থাকে, তাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়। সাধারণত সমাজ বা মানবজীবনের মহৎ কোনো আদর্শ বা বৈশিষ্ট্য, নীতি-নৈতিকতা, প্রেরণামূলক কোনো বিষয় যে পাঠে বা বাক্যে বা চরণে থাকে, তার ভাব-সম্প্রসারণ করা হয়। ভাবসম্প্রসারিত ক্ষেত্রে রূপকের আড়ালে বা প্রতীকের ভেতর দিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়, তাকে যুক্তি, উপমা, উদাহরণ ইত্যাদির সাহায্যে বিশ্লেষণ করতে হয়।

ভাব-সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে যেসব দিক বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন : 

  • উদ্ধৃত অংশটুকু মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
  • অন্তর্নিহিত ভাবটি বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
  • অন্তর্নিহিত ভাবটি কোনো উপমা-রূপকের আড়ালে নিহিত আছে কি না, তা চিন্তা করতে হবে। 
  • সহজ-সরলভাবে মূল ভাবটিকে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
  • মূল বক্তব্যকে প্রকাশরূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। 
  • বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • বক্তব্য সাধারণত বিশ থেকে পঁচিশ লাইনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। 

(toc)

প্রয়োজনই উদ্ভাবনের জনক।  

মূলভাব : সমস্ত সৃষ্টির মূল প্রেরণা হচ্ছে চাহিদা বা প্রয়োজন। প্রয়োজন না থাকলে মানুষের ভাবনাও থাকে না; তখন বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছু করার আগ্রহও থাকে না। তাই কোনো কিছু উদ্ভাবনের প্রারম্ভে যে বিষয়টি বিবেচ্য তা হচ্ছে প্রয়োজন।
সম্প্রসারিত ভাব : অণু থেকে অট্টালিকা পর্যন্ত, বিশ্বসভ্যতার প্রতিটি সৃষ্টির মূলে রয়েছে প্রয়োজন। জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত; পৃথিবীর সব কাজে- খাদ্য, বস্ত্র, অন্ন, বাসস্থান, চিকিৎসা- যা কিছু দৃশ্যমান সবই প্রয়োজনের তাগিদে সৃষ্টি। পৃথিবীর সূচনা থেকেই মানুষ তার প্রয়োজন মেটানো বা অভাব পূরণের নিমিত্তেই বিচিত্র জিনিস উদ্ভাবন শুরু করেছে। তবে মানুষের এ উদ্ভাবন নাটকীয়ভাবে হয়নি। সৃষ্টির আদিলগ্নে মানুষ যখন অসহায় তখনই তার বোধ হয় ‘প্রয়োজন’-এর। উদ্ভাবন শুরু হয় নতুন নতুন জিনিসের। আদিম গুহাবাসী মানুষ শিকারের প্রয়োজনে তীর ধনুক আবিষ্কার করে, কাঁচা মাংস পুড়িয়ে খাওয়ার জন্য আগুন জ্বালাতে শেখে। এমনিভাবে প্রয়োজন ও আবিষ্কারের ধারাবাহিক স্তর পেরিয়ে মানুষ পদার্পণ করেছে আধুনিক সভ্যতায়। অন্ধকার থেকে আলোয় যাওয়ার প্রয়োজন উপলব্ধি করে মানুষ বিদ্যুৎ উদ্ভাবন করেছে। সুষ্ঠু যাতায়াত ব্যবস্থার প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছে। শিক্ষার প্রয়োজন উপলব্ধি করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান করেছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, ওষুধ ও বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, ই-মেইল, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং চাষাবাদের জন্য উন্নত ধরনের আধুনিক কৃষিসরঞ্জাম আবিষ্কার করা হয়েছে। সর্বোপরি বিশ্বের সর্বত্র যে বিশাল কর্মকাণ্ডে মানুষ নিয়োজিত রয়েছে তা কেবল প্রয়োজন সাধনেই নিবেদিত।
মন্তব্য : প্রয়োজনের শেষ নেই, তাই মানুষের উদ্ভাবনেরও শেষ নেই। প্রয়োজনের তাগিদেই যুগ যুগ ধরে মানুষ এগিয়ে চলছে অসীমের সন্ধানে।


পরের অনিষ্ট চিন্তা করে সেই জন
নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।

মূলভাব : মানুষে মানুষে কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়েই পৃথিবীতে স্বর্গের সুখ নেমে আসে। কিন্তু অপরের অনিষ্ট চিন্তা সমাজে নিয়ে আসে বিপর্যয়। অন্যকে বিপদগ্রস্ত করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় মানুষ নিজেই বিপদগ্রস্ত হয়।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ পৃথিবীতে একে অপরের সাথে মিলে মিশে থাকবে এটাই একান্তভাবে প্রত্যাশিত। পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে একে অপরের মধ্যে সদ্ভাব ও সম্প্রীতির মাধ্যমে। এর ফলে একজন আরেকজনের দুঃখে কাতর হয়। তাকে উদ্ধার করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এভাবেই চলতে থাকে সামাজিক কাজকর্ম। কিন্তু সমাজের সকল মানুষের মনমানসিকতা তো একরকম নয়। ভালো মানুষের আড়ালে কিছু দুষ্ট লোকেরও বাস থাকে। পরের অনিষ্ট করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। পরের ভালো তাদের দুচোখের কাঁটা। কীভাবে অন্যের ক্ষতি করা যাবে সেই চিন্তায় তারা সর্বদা ব্যস্ত থাকে। তাদের সবসময় যোগাযোগ থাকে তাদের সমজাতীয় লোকের সাথে। এরা ক‚টবুদ্ধির হোতা হিসেবে সমাজে পরিচিত। কিন্তু তারা একথা বুঝতে পারে না যে তারা পরের অনিষ্ট করতে গিয়ে নিজেরই বেশি ক্ষতি করে। তারা কখনোই সমাজের ঊর্ধ্বে নয়। সমাজের কারো যদি তারা ক্ষতি করে তাহলে কিছুটা হলেও তার প্রভাব সমাজের ওপর পড়ে। আর সমাজের ওপর প্রভাব পড়া মানে তার ওপর প্রভাব পড়া। কিন্তু স্থূলবুদ্ধির কারণে তারা অনেক সময় এই ব্যাপারটি বুঝতে পারে না। অনেক সময় অন্যের সামান্য ক্ষতি করার জন্য নিজের দ্বিগুণ ক্ষতি স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করে না। পরিণতিতে তারা তাদের নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে। উদাহরণস্বরূপÑ ঘসেটি বেগম ও মীরজাফর, নবাব সিরাজদ্দৌলাকে ধ্বংস করতে গিয়ে তারা ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে এ রকম অজস্র উদাহরণ চোখে পড়বে। তাই পরের অনিষ্ট চিন্তা না করে পরের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই জীবনের সার্থকতা।
মন্তব্য : যারা পরের অনিষ্টের কথা চিন্তা করে তারা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারে না। নিজের ফাঁদে নিজেই আটকে পড়ে ধুঁকে ধুঁকে মরে। চক্রান্ত ষড়যন্ত্রকারীরা সাময়িকভাবে সফল হলেও প্রকৃত বিচারে তারা ইতিহাসে ঘৃণিত মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

ভোগে নয়, ত্যাগেই সুখ।  
অথবা, ভোগে সুখ নাই, কর্ম সম্পাদনেই প্রকৃত সুখ।

মূলভাব : মনুষ্যত্বই মানুষের আসল পরিচয়। আর ত্যাগের মহিমাই পারে মানুষের এ মনুষ্যত্বের উৎকর্ষ ও বিকাশ ঘটাতে। ত্যাগের মাধ্যমে সম্পদ চলে যায়, কিন্তু তার বদলে পাওয়া যায় অমিয় সুখ। তাই ত্যাগই মানুষের একমাত্র আদর্শ হওয়া উচিত।
সম্প্রসারিত ভাব : জগৎসংসারে ভোগ ও ত্যাগ দুটি বিপরীতমুখী দিক। ভোগ ও ত্যাগের দরজা সবার জন্যই উন্মুক্ত। ভোগে আনন্দ থাকলেও তৃপ্তি নেই। কিন্তু ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ ও তৃপ্তি দুটোই লাভ করা যায়। তাই ভোগ নয়, ত্যাগই জীবনের মূল সাধনা হওয়া বাঞ্ছনীয়। মনুষ্যত্বের কল্যাণেই মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা ও শ্রেষ্ঠ। শুধু মানুষ হিসেবে জন্ম নিলেই মনুষ্যত্ব লাভ করা যায় না। মানুষকে তার স্বীয় চেষ্টায় এ মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে হয়। ভোগের মাধ্যমে এর বিকাশ ঘটে না। ভোগ মানুষকে জড়িয়ে ফেলে পঙ্কিলতা, গøানি ও কালিমার সঙ্গে। মনুষ্যত্বহীন মানুষদের অর্জিত সম্পদ নিজের স্বার্থ ছাড়া সমাজের অন্য কোনো কাজে আসে না। পরের দুঃখে তাদের মন কাঁদে না। তারা স্বার্থান্ধ ও সংকীর্ণচিত্ত বলে সমাজে পরিচিত। অন্যদিকে ত্যাগের পরের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার দিকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। মনুষ্যত্বের গুণে মানুষ নিজের স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে পরার্থে, দীনদুঃখীদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে আনন্দ পায়। সুখের জন্য অনেকেই বিলাস-ব্যসনে মত্ত হয়ে ওঠে এবং ভোগ-বিলাসের নানা উপকরণের আয়োজন করে। কিন্তু কোনোভাবেই ভোগাকীর্ণ জীবন সুখের সন্ধান দেয় না। কেননা তা হলে বিত্ত ও ক্ষমতাবানরাই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুখী বলে গণ্য হতেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এঁরাও জীবনে প্রকৃত সুখী হতে পারেন না। একমাত্র মহৎ কর্মের মধ্য দিয়েই অন্তরের সুখ পাওয়া যায়। দেশব্রতী, মানবব্রতী কর্মেই মানুষ লাভ করে জীবনের সার্থকতা। 
মন্তব্য : বস্তুত পরের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করার মধ্যেই মানুষের মানবিক গুণাবলির শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। যথার্থ সুখ ভোগ-বিলাসে পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় নিরন্তর কাজের মধ্যে। আর দেশব্রতী ও মানবব্রতী ভ‚মিকার মধ্যে। 

যে একা সেই সামান্য, যার ঐক্য নাই সে তুচ্ছ।

মূলভাব : অন্যের সহযোগিতা ছাড়া মানবজীবন অচল। পৃথিবীতে যে ব্যক্তি নিঃসঙ্গ ও একা, সে নিঃসন্দেহে অসহায়। ঐক্যবদ্ধ জীবনপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে সে শক্তিতে সামান্য এবং সামাজিকভাবে তুচ্ছ।
সম্প্রসারিত ভাব : একজন মানুষ বা অন্য যেকোনো প্রাণী যখন একা তখন তার শক্তি থাকে সীমিত। কিন্তু যখন একতাবদ্ধ হয়ে দশজন একসঙ্গে কোনো কাজে হাত দেয় তখন সে হয় অনেক সবল ও শক্তিশালী। তখন কোনো কঠিন কাজ আর কঠিন বলে মনে হয় না। পৃথিবীর আদিপর্বে মানুষ ছিল ভীষণ অসহায়। কারণ তখন সে ছিল একা। সভ্যতার ঊষালগ্নে মানুষ উপলব্ধি করল যে, ঐক্যবদ্ধ জীবন ছাড়া এ পৃথিবীর সমস্ত প্রতিক‚লতা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তাই মানুষ গড়ে তোলে সমাজবদ্ধ জীবন, হয়ে ওঠে সামাজিক বলে বলীয়ান। এর পর থেকে মানুষ আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। একতার শক্তিকে উপেক্ষা করে যে একা থাকতে চায় সে আসলে অসহায়। শক্তি বা সামর্থ্যরে ক্ষুদ্রতার কারণে একক মানুষ সকলের নিকট উপেক্ষিত। কিন্তু যারা ঐক্যবদ্ধ তাদের শক্তি অসীম। ঐক্যই প্রকৃত শক্তি। বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় বিশাল জলরাশি। এইভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় অসীম শক্তি। অনেক ব্যক্তিসত্তা যখন একতাবদ্ধ হয়ে সমষ্টির সৃষ্টি করে, তখন তাদের সমবেত শক্তি জাতীয় জীবনে বিরাট অবদান রাখতে সক্ষম হয়। একতার শক্তি অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করে। সমগ্র জাতির মধ্যে একতা ছিল বলেই আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছি। একক কোনো শক্তি বলে তা সম্ভব ছিল না। আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি, যখনই আমাদের জাতীয় জীবনে ঐক্যের অভাব হয়েছে তখনই নানা বিপদ ও দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে। শুধু জাতীয় জীবনে নয়, আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও একতার প্রয়োজন। একতাবদ্ধ হয়ে আমরা যেকোনো কাজ যত সহজে ও নির্বিঘেœ করতে পারি একাকী তা করা সম্ভব নয়।
মন্তব্য : মানুষ এককভাবে সামান্য আর তুচ্ছ। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নতিতে চাই মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।


এ জগতে হায় সে-ই বেশি চায় আছে যার ভ‚রি ভ‚রি
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

মূলভাব : ধনসম্পদ টাকা-পয়সা বাড়ানোর আকাক্সক্ষা মানুষের দুর্নিবার। তাই আকাক্সক্ষা মানুষকে লোভী করে তোলে। শত অর্জনের পরও তারা তৃপ্ত হয় না। তখন তারা গরিবের সামান্যতম সম্পদটুকু গ্রাস করে নিতে পিছপা হয় না।
সম্প্রসারিত ভাব : ধনসম্পদ উপার্জনের অদ্ভুত রকমের তৃষ্ণা মানুষকে ক্রমাগত তাড়িত করে। যে যত পায় সে তত চায়। এই চাওয়া এবং পাওয়ার কখনো শেষ নেই। রাশি রাশি সম্পদ জমিয়ে সম্পদের পাহাড় তৈরি করে মানুষ। তারপরও সে তৃপ্ত হয় না। সম্পদ বাড়ানোর নেশায় সে দুর্দমনীয় হয়ে উঠে। ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ, সত্য-মিথ্যা ইত্যাদি জলাঞ্জলি দিয়ে বিত্ত ও বৈভবের মোহে সে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে। নির্বিচারে সম্পদ সংগ্রহের ফলে সে গরিবের সামান্য সম্পদের প্রতি হাত বাড়ায়। গরিবের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়ে সে তার প্রাচুর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে হয়। অন্য দিকে অনাহারক্লিষ্ট গরিব মানুষেরা তাদের সামান্য সম্বল নিয়ে নিরিবিলি জীবনযাপন করে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য তাদের নিত্যদিনের সহচর। ধনীর ঐশ্বর্যের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকে না। রাজা-মহারাজাদের বিলাসবহুল জীবনের খবরাখবর তারা কখনো রাখে না। কোনো রকমে খেয়ে-পরে বাঁচার মধ্যেই তারা শান্তি খুঁজে নিতে চায়। কিন্তু, এইটুকু সুখ আর এইটুকু শান্তিতেও বাধা সৃষ্টি করে উঁচু তলার ধনিক সম্প্রদায়। তাদের অপরিসীম ধনতৃষ্ণা একসময় গ্রাস করে গরিবের শেষ সম্বল ভিটে বাড়ি। ছলে-বলে-কৌশলে অথবা শক্তি খাটিয়ে, ভুখা-নাঙা মানুষের শেষ সম্বলটুকু ছিনিয়ে এনে এরা ভয়ংকর লোভের আগুনে নিজেদেরকে আত্মাহুতি দেয়। এভাবেই দরিদ্র মানুষেরা পরিণত হয় পথের ভিক্ষুকে।
মন্তব্য : শোষিত-বঞ্চিত দুঃখী মানুষের ক্রন্দনধ্বনি আর দীর্ঘ নিশ্বাসে ভারী হয়ে উঠছে পৃথিবীর বাতাস। এজন্য প্রয়োজন সম্পদের সুষম বণ্টন ও ন্যায্য হিসাব। সামন্তবাদী আর পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার ফলে দরিদ্র মানুষের ওপর নেমে এসেছে যে অমানিশার কালো অন্ধকার, তার অবসান হওয়া উচিত।

সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
অথবা, জ্ঞানশক্তি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য।

মূলভাব : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই সুশিক্ষিত হওয়া যায় না। শিক্ষার পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হতে হলে মানুষকে নিজস্ব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে এবং সুশিক্ষিত হওয়ার জন্য স্বশিক্ষা বা নিজে নিজে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানশক্তিতে বলীয়ান হওয়া।
সম্প্রসারিত ভাব : শিক্ষা সম্পূর্ণভাবেই অর্জনসাপেক্ষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্জিত শিক্ষার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রদানের মধ্যেই তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। জ্ঞানকে আত্মস্থ করার জন্য আত্মপ্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার পরিধি বা সীমা বলতে কিছু নেই। তাই নিরন্তর জ্ঞান-অনুশীলন ছাড়া কেউ সুশিক্ষিত হতে পারে না। আমাদের সমাজে এমন অনেকেই রয়েছেন যাঁদের উচ্চতর ডিগ্রি আছে, কিন্তু দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁরা কিছুই করতে পারেন না। তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেও তাঁরা স্বশিক্ষায় সুশিক্ষিত না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে কখনোই মুক্তচিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। আবার অনেক স্বশিক্ষিত ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াও দেশ ও জাতি তথা বিশ্বমানবের কল্যাণের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, সক্রেটিস, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, নিউটন, গ্যালিলিও, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। তাঁরা স্বশিক্ষায় সুশিক্ষিত ছিলেন বলেই মরেও অমর হয়ে আছেন। সুশিক্ষিত লোকের মন মুক্তবুদ্ধির আলোকে উদ্ভাসিত হয়। তিনি বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হন। পরিশীলিত রুচিবোধে তিনি হন উদার ও বিনম্র। সব মিলিয়ে সুশিক্ষিত মানুষ নিঃসন্দেহে হন আলোকিত মানুষ। তাই একটি দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতিকল্পে স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত লোকের কোনো বিকল্প নেই।
মন্তব্য : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং বাস্তব জীবন থেকে অর্জিত শিক্ষার মধ্যে ব্যাপক ফারাক আছে। এ দুয়ের মাঝে সমন্বয় ঘটলে পূর্ণাঙ্গভাবে শিক্ষিত হওয়া যায়। সুশিক্ষার জন্য নিজের উদ্যোগের প্রয়োজন হয়। একমাত্র স্বশিক্ষার মাধ্যমেই সুশিক্ষিত হয়ে ওঠা সম্ভব। 


স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো।

মূলভাব : স্পষ্টভাষী লোকদের স্বভাবের কারণে তাদের পরিচয় কারও কাছে গোপন থাকে না। অন্যদিকে নির্বাক ব্যক্তির মনে কী চলছে তা জানার উপায় নেই। এ কারণে স্পষ্টভাষী ব্যক্তি শত্রু হলেও নির্বাক বন্ধুর তুলনায় নিরাপদ বলে বিবেচিত।
সম্প্রসারিত ভাব : যে ব্যক্তি সত্য প্রকাশের সাহস রাখে না, সে মিত্র হলেও তাকে প্রকৃত বন্ধু হিসেবে ভাবা বা গ্রহণ করা যায় না। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি সত্য কথা বলতে দ্বিধাবোধ করে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রতিবাদী, সে শত্রু হলেও নির্বাক বন্ধু অপেক্ষা উত্তম। একজন সৎবন্ধু প্রত্যেকের জীবনেই কাম্য। প্রকৃত বন্ধু সুখে-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায়, বিপদে-আপদে সুহৃদের ভ‚মিকা রাখে। কিন্তু অনেক সময় বন্ধুত্বের কারণে এবং বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে বন্ধুর ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্দেশ করে না। নীরব দর্শকের ভ‚মিকা পালন করে। ফলে মানুষ নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ পায় না। মানুষের জীবনে স্পষ্টবাদিতা একটি মহৎ গুণ। স্পষ্টভাষী লোক শত্রু হলেও নির্বাক বন্ধু অপেক্ষা সহস্র গুণ শ্রেয়। কারণ, যেখানে বন্ধু বন্ধুর দোষের কথা বন্ধু হওয়ায় গোপন করে, সেখানে স্পষ্টভাষী শত্রু দোষ তুলে ধরে। তখন সে দোষ সংশোধনের বা সাবধানতা অবলম্বনের সুযোগ পায়। শত্রুর এই আচরণ প্রকৃত প্রস্তাবে মানুষের উপকারই করে। স্পষ্টভাষী শত্রুর সমালোচনা থেকে মানুষ উপকৃত হয় বলে শত্রæকে অমর্যাদা করা যথার্থ নয়। সে শত্রু হলেও পরোক্ষভাবে উপকার করে বন্ধুর মতোই দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মন্তব্য : স্পষ্টবাদী ব্যক্তি সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রতিবাদী। তাই এমন ব্যক্তি শত্রু হলেও নির্বাক বন্ধু অপেক্ষা অনেক ভালো। সে শত্রু হলেও স্পষ্টবাদিতার গুণে মহৎ বন্ধু।


পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথের সৃষ্টি করে।

মূলভাব : জগতে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পথ রচনা করেছেন। আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে অন্ধকারকে বিদূরিত করে এগিয়ে গেছে চিরকল্যাণ ও মুক্তির পথে। সত্যসন্ধানী মানুষেরা কখনো থেমে থাকে না। পথহীন পথে হেঁটে হেঁটেই তাঁরা আবিষ্কার করে নেয় আলোকিত নতুন পথ।
সম্প্রসারিত ভাব : পার্থিব কামনা-বাসনায় পরিপূর্ণ আমাদের এ মানবজীবন। প্রাপ্তির প্রত্যাশায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এখানে চলছে কর্মোদ্যোগ। সাধনা এবং কর্মকুশলতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ তাই এগিয়ে যায় সামনের দিকে। জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সে নিজেই খুঁজে নেয় নিজের পথ। জীবনের আঁকাবাঁকা পথে হাঁটতে হাঁটতে সে একসময় যখন পথের প্রান্তে এসে দাঁড়ায়, যখন সে দেখে তার সামনে আর কোনো পথ নেই, কেবল ঘুটঘুটে অন্ধকার; তখনো সে থেমে থাকে না। আলোর মশাল জ্বালিয়ে সৃষ্টি করে নতুন পথ। সমাজের কল্যাণের জন্য মানুষের মুক্তির জন্য যেসব মহাপুরুষ এ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন তাঁরা সেই তীর্থ পথের পথিক। হযরত মুহাম্মদ (স.), ঈসা (আ.), সক্রেটিস, অ্যারিস্টটল, কনফুসিয়াস এমনি বহু মহামানবের নাম এ প্রসঙ্গে বলা যায়। যাঁরা আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে পথহারা মানুষের জন্য তৈরি করে গেছেন নতুন পথ। তাঁদের আদর্শ, তিমিরবিনাশী অমর বাণী বিভ্রান্ত মানুষকে দেখিয়েছে সত্য ও সুন্দরের পথ। তাঁরা যে জীবনাদর্শ আমাদের সামনে রেখে গেছেন, তা আমাদের পরম পাথেয়। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরাও যদি আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হই তাহলে তাদের সম্মুখ থেকে সকল অন্ধকার কেটে যাবে। সমস্ত জঞ্জাল, সমস্ত অন্ধকার ভেদ করে উদিত হবে জীবনের সোনালি সূর্য।
মন্তব্য : আলোকপিয়াসী মানুষ কখনো গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয় না। ভ্রান্তপথ কখনো তাকে মোহগ্রস্ত করতে পারে না। সে তারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে সত্য ও কল্যাণের পথ প্রাপ্ত হয়। অন্যদেরও সেই কল্যাণের পথে আহবান জানায়। কারণ, সে সচেতন সে বিশ্বাস করে পথিকই পথের স্রষ্টা।
 

যেখানে দেখিবে ছাই
উড়াইয়া দেখ তাই
পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন।

মূলভাব : এই মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই তুচ্ছ নয়। অতি সাধারণ জিনিসের অন্তরালেও মূল্যবান কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে।
সম্প্রসারিত ভাব : ছাই অতি নগণ্য একটি বর্জ্য পদার্থ। সকলে তাকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে। কিন্তু এই মূল্যহীন ছাইয়ের নিচে অমূল্য রতন পাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এর মাঝেও লুকিয়ে থাকতে পারে জ্বলজ্বলে হীরক খণ্ড, যা মহামূল্যবান। তাই রহস্যে ভরা এই পৃথিবীর কোনো কিছুকেই তুচ্ছ জ্ঞান করা ঠিক নয়। কোনো কিছুর উপরিভাগের দৈন্য কিংবা অসৌন্দর্যতা দেখে তা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে আসা অনুচিত। কারণ অনেক সময়, অতি সাধারণ জিনিসের ভেতরেই অসাধারণ কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে। এ জগৎ সংসারে অতি সাধারণ জিনিসকে আমরা অনেক সময় অবহেলা করি। ছোটকে ছোট ভেবে দূরে সরিয়ে রাখি। আবার অনেক সময় সোনার হরিণ ধরার মতো মহামূল্যবান জিনিসের পেছনে আমরা ধাবিত হই। ফলে সাধারণ জিনিসগুলো বহুকাল থেকে যায় অজ্ঞাত, অবহেলিত। অথচ অনুসন্ধান করলে এ সাধারণ জিনিসগুলার ভেতরেই অসাধারণ মহামূল্যবান জিনিসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। যেমনÑ ঝিনুকের ভেতর পাওয়া যায় মুক্তার মতো রতœপাথর। মানুষের বাহ্যিক অবয়ব, পোশাক-পরিচ্ছদ অতি সাধারণ হলেও অনেক সময় এসবের ভেতরে বসবাস করে অতি অসাধারণ মানুষ। মিথ্যা জৌলুসের মোহে অন্ধ মানুষ এ অসাধারণ মানুষগুলোকে অনুসন্ধান করে না। অথচ মানুষের উচিত কারো বাহ্যিক আড়ম্বরে বিভ্রান্ত না হয়ে তার সত্যিকার স্বরূপ উদ্ঘাটন করা।
মন্তব্য : ছোটকে তুচ্ছ বলে অবহেলা করলে অনেক মূল্যবান সম্পদ হারানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে মূল্যহীন ভাবা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভেতরটা অনুসন্ধানের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা উচিত।

“শৈবাল দিঘীরে বলে উচ্চ করি শির
লিখে রেখে এক ফোঁটা দিলেম শিশির।”

মূলভাব : সংকীর্ণ মনের অধিকারীরা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না। যারা অকৃতজ্ঞ তারা যদি অপরের সামান্য উপকার করে তাহলে গর্বভরে সে কথা প্রচার করে বেড়ায়। কিন্তু মহৎ ও উদার মনের মানুষেরা আত্মপ্রচারে উৎসাহ পান না।
সম্প্রসারিত ভাব : শৈবালের জন্ম এবং পরিবৃদ্ধি হয় দিঘির অথৈ জলে। নিজের অস্তিত্বের জন্য দিঘির প্রতি শৈবালের কৃতজ্ঞতাবোধ থাকা উচিত। কিন্তু শৈবাল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কুয়াশা ঢাকা শীতের সকালে শৈবালের গায়ে জমা হয় বিন্দু বিন্দু শিশির। প্রাকৃতিক নিয়মে সেই শিশির গড়িয়ে পড়ে দিঘির জলে। ক্ষুদ্র শৈবাল এটাকেই দিঘির প্রতি তার বড় দান হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়। বিচিত্র এ পৃথিবীতে পরনির্ভরশীল শৈবালের মতো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের অভাব নেই। তারা আশ্রয়দাতার প্রতি সকৃতজ্ঞ নয় বরং নিজেকে জাহির করার জন্য সামান্য অবদানের কথাই জনসমক্ষে তুলে ধরতে সচেষ্ট থাকে। অথচ সেই জলভরা দিঘি অন্যের উপকার হেতু নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দেয়। শৈবালের মতো সে দানের হিসাব লিখে রাখতে বলে না। এখানেই ক্ষুদ্র ও মহৎ প্রাণের পার্থক্য দেখা যায়। দিঘির মতোই কোনো কিছুর প্রত্যাশা না করে পৃথিবীর মহৎ মানুষেরা পরোপকারে ব্রতী হন। অন্যের মঙ্গল সাধনাকেই তারা নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করেন। এর বিনিময়ে তাঁরা কিছুই চান না। তাঁরা ত্যাগের মহিমা দ্বারা নিজেকে উজাড় করে দেন অপরের সুখ-শান্তির জন্য।
মন্তব্য : পরোপকারের হিসাব মনে রাখা দানশীল মহৎপ্রাণ ব্যক্তিদের ধর্ম নয়। অন্যের কল্যাণ সাধন করেই তাঁরা কৃতার্থ হন। আত্মপ্রচারের ফলে ক্ষুদ্র দানের মহিমাও মরান হয়ে যায়। তাই প্রত্যেকেরই উচিত, উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নিজের উপকারের জন্য বড়াই না করা।

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !