ঈদে মিলাদুন্নাবী (দঃ) কি এবং কেন? - What is Eid Miladun Nabi (PBUH) and why?

 ঈদে মিলাদুন্নাবী (দঃ) কি এবং কেন?

(toc)

মিলাদ অর্থ জন্ম। ঈদে মিলাদুন্নাবী অর্থ রাসুলে কারীম (দঃ) এর জন্মদিন উপলক্ষে খুশি উদযাপন করা। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলা’মীন সূরা আম্বিয়ার ১০৭নং আয়াতে এরশাদ করেনঃ “আমি আপনাকে বিশ্ববাসীদের জন্য রহমত স্বরুপই প্রেরণ করেছি”। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলা’মীন এখানে রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ)-কে সমগ্র জাহানের জন্য রহমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সূরা ইউনুস ৫৮নং আয়াতে এরশাদ করেনঃ “হে রাসুল, আপনি বলে দিন, তারা যেন আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে খুশি উদযাপন করে। এ (খুশি ও আনন্দ উদযাপন) তাদের সমুদয় সঞ্চয় থেকে উত্তম”। সুবাহানাল্লাহ্‌। ১ম আয়াতে আল্লাহ্‌ রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ)-কে রহমত বলেছেন এবং ২য় আয়াতে আল্লাহ্‌ আদেশ দিয়েছেন এই রহমত (রসুলকে) পেয়ে খুশি উদযাপন করতে। শুধু উদযাপন নয়, বরং এই খুশি উদযাপন করাটা তাদের সমস্ত সঞ্চয় (আমল) থেকে উত্তম বলে ঘোষনা দিয়েছেন।

রাইসুল মুফাসসিরিন আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌নে আব্বাস (রাঃ) সহ সকল মুফাসসিরগন এ বিষয়ে একমত যে, উক্ত আয়াতে বর্ণিত ‘ফাদ্‌ল’ (অনুগ্রহ) ও রহমত দ্বারা রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। এছাড়াও বুখারী শরীফে ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘মুহাম্মদ (দঃ) আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠ নিয়ামত’। (বুখারী-২/৫৬৬)

সূরা আলে-ইমরান ১৬৪ নং আয়াতে এরশাদ করেছেনঃ “আল্লাহ্‌ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যেন, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন”। এখানেও আল্লাহ্‌ বুঝাতে চেয়েছেন যে, রাসুলকে প্রেরন করে তিনি মুমিনদের উপর অনেক বড় এহসান করেছেন, তাই এই নিয়ামত পাওয়ার জন্য তাদের খুশি উদযাপন করা উচিৎ।

সূরা আল-বাক্বারাহ ২৩১নং আয়াতে এরশাদ করেছেনঃ “আল্লাহ্‌র নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করোনা। আল্লাহ্‌র সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে”। এখানেও আল্লাহ্‌ তাঁর অনুগ্রহ তথা নবীজীর কথা স্মরণ করার আদেশ দিয়েছেন। এছাড়াও পবিত্র কুরআনের আলোকে জানা যায়, আল্লাহ্‌র নেয়ামত প্রাপ্তিতে খুশি উদযাপন করা নবীদেরই সুন্নাত। যেমন ঈসা (আঃ) যখন আল্লাহ্‌র দরবারে নিজ উম্মতের জন্য খাদ্য চাইলেন, তখন এভাবে আরজ করলেন, সুরা মায়েদা ১১৪ নং আয়াতঃ “ হে আমাদের প্রতিপালক, আসমান থেকে আমাদের জন্য নিয়ামতের খান অবতীর্ণ করুন, যা আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য ঈদ হয়ে যায়”। পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে ঈসা (আঃ) এ আশাই ব্যক্ত করেছেন যে, যেদিন আল্লাহ্‌ পাকের নিয়ামত অবতীর্ণ হবে, সেদিনটি ঈদ হিসেবে পালিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উম্মতের জন্যঃ যা এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের একটি উত্তম পন্থা। ঈসা (আঃ) যদি সামান্য জান্নাতি খাবার পেয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেন তাহলে আমরা রাহমাতুল্লিল আলা’মিনকে (যাকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ্‌ কিছুই সৃষ্টি করতেন না) পেয়ে কেন ঈদ উদযাপন করতে পারবো না? তাঁর চেয়ে বড় নিয়ামত আর কি আছে বা হতে পারে? বরং এদিন ঈদ মানানো ঈসা (আঃ)-এর ঈদ মানানোর চেয়ে কোটিগুন উত্তম। তাই মিলাদুন্নাবী পালন করা কুরআন হতে প্রমাণিত।

রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ) নিজেই নিজের মিলাদ পালন করেছেন। হযরত আবু কাতাদা(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একজন সাহাবী রাসুলের পাকের খেদমতে আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ) আমার মাতা পিতা আপনার কদমে কুরবান হোক। আপনি প্রতি সোমবার রোজা পালন করেন কেন? জবাবে হুজুরে কারীম (দঃ) বলেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহন করেছি এবং এইদিনে আমার উপর ওহী নাযিল হয়েছে। ( মুসলিম শরীফ-২/৮১৯পৃঃ) (বাইহাকীঃ সুনানে কুবরা ৪/২৮৬পৃঃ) (মুসনদে আহ্‌মদ ৫/২৯৭পৃ) (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৪/২৯৬পৃঃ) (হিলায়াতুল আউলিয়া ৯/৫২পৃঃ)। দেখুন রেসুলে কারীম (দঃ) প্রতি বছর নয় বরং প্রতি সপ্তাহে নিজের জন্মদিন পালন করেছেন। তাহলে আমাদের প্রতি বছর উদযাপন করাটা কি বৈধ নয়?

রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ) কে পেয়ে খুশি হওয়ার ফলাফলঃ হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্ন দেখি। সে আমাকে বলে “কবরের জিন্দেগিতে আমি শান্তিতে নেই। কিন্তু হ্যাঁ, প্রত্যেক সোমবার তর্জনী আঙ্গুল থেকে আমি মিষ্টি পানি পেয়ে থাকি কেননা আমি সুয়াইবা নামক বাদীকে ( নবীজীর মিলাদের সংবাদ দেয়াই খুশি হয়ে) আযাদ করেছিলাম আঙ্গুলের ইশারায়”। (বুখারী শরীফ- কিতাবুন নিকাহ্‌ ৫১০১নং হাদিস)

এই ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত আব্বাস (রাঃ) বলেন, আবু লাহাবের সোমবারের এই শাস্তি লাঘবের কারণ রাসুল (দঃ) এর জন্মের খবর আবু লাহাবকে দিলে সে খুশি হয়ে সুয়াইবাকে (খবরদানকারি দাসি) আযাদ করেছিলেন। (ফাতহুল বারি শরহে সাহিহুল বুখারী ৯ম/১১৮পৃ ইমাম ইবনে হাজর আসকাল্লানী)। এখানে চিন্তার বিষয় হল আবু লাহাবের মত কাফের যার ধ্বংস হওয়ার ব্যপারে কুরআনে সূরা নাযিল হয়েছ, যার স্থান সর্বদাই জাহান্নাম, সে যদি নবীজীর জন্মদিনের সংবাদে খুশি হয়ে মাত্র একটি দাসী আযাদ করে প্রতি সোমবারে জাহান্নামে আল্লাহ্‌ তাকে পানি দান করেন, তাহলে আমরা যা মুমিন সুন্নি মুসলমান নবী প্রেমিক তারা মিলাদুন্নাবী পালন করলে আল্লাহ্‌ কি আমাদের উত্তম প্রতিদান দিবেন না ? ইনশাআল্লাহ্‌ অবশ্যই দিবন, কেননা তিনিই বলেছন নবীকে পেয়ে খুশি উদযাপন করা সকল সঞ্চয়কৃত আমেলর চেয়ে উত্তম (ইউনুস ৫৮)। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ননা করেন "একদা তিনি উনার গৃহে সাহাবায়ে কিরামদের নিয়ে হুজুর (দঃ) এর জন্মবিত্যান্ত আলোচনা করছিলেন। শ্রবনকারীরাও তা শুনে আনন্দ পাচ্ছিলেন। ঠিক ওই সময় নবীজী ( দঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে।” এই হাদিসটি বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে এসেছে যেমন: মাওলুদুল কবীর, আত তানভীর ফী মাওিলিদল বাশীর ওয়ান নাযার, হাকিকতে মহাম্মদী (মিলাদ অধ্যায়), দুররুল মুনাজ্জাম, ইশবাউল কালাম।

নবীজীকে পেয়ে আমরা যে জশনে জুলুস বা খুশি হয়ে যে মিসিল বা রেলী করে থাকি তাও কিন্তু নতুন কিছু নয়। বরং এটাও সাহাবীদের সুন্নাত। মুসলিম শরীফের ২/৪১৯পৃঃ বর্ণিত আছে “রাসুল (দঃ) যেদিন হিজরত করে মদিনা শরীফে আগমন করেছেন ঐদিন মদিনাবাসী আবাল-বৃদ্ধ-বানিতা সাহাবীগন রাসুল (দঃ) এর আগমনের শুকরিয়া হিসেবে আনন্দ মিছিল করেছিলেন, আবার অনেকে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং ইয়া রাসুলুল্ললাহ্‌ (দঃ) স্লোগান দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন”। এটাইতো আমরাও করে থাকি, সাহাবীদের দেখানো পথে হেটে, তাদের সুন্নাতের উপর আমল করি।

এছাড়াও উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহনের প্রসিদ্ধ ঘটনা যা আমরা সকলেই জানি এবং যা ইবনে ইসহাকের সিরাহ সহ অসংখ্য সিরাতের কিতাবে পেয়ে থাকি যে, উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করলে সাহাবীগন রাসুল (দঃ)-এর কাছে আবেদন জানান যে তারা ইসলামের সুমহান বাণী ও উমার (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহন করার কথা পুরো মক্কায় প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দিতে চান মিছিলের মাধ্যমে (কেননা উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহনের পূর্বে ইসলাম প্রচার চুপি চুপি করে করা হত, কুফফারে মক্কার অত্যাচারের ভয়ে)। রাসুল (দঃ) তাদের অনুমতি দিলে তারা ৪০ সাহাবী একে অপরের হাত ধরে মক্কার অলিতে-গলিতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌। সাহাবীগন উমারকে পেয়ে খুশিতে মিছিল করতে পারলে আমরা কি উমারের নবী, সমস্ত নবীদের সরদার, শাফায়াতের কান্দারী, আমাদের ঈমান-জানকে পেয়ে খুশিতে মিছিল করতে পারিনা? অবশ্যিই পারি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে কিছু পথভ্রষ্টদের ঈমান কতইনা দূর্বল হয়ে গিয়েছে যে আজ তারা নিজের পরিবারের বা অন্য কারো জন্মদিন বিধর্মীদের নিয়মে (গানবাজনা, নাচ যা সম্পুর্ন ইসলাম বিরোধী) পালন করলে তাদের বিবেক তাদের বাধা দেয়না, তারা কুরআন হাদিসও দেখেনা। কিন্তু যখনিই কোন নবী প্রেমিক মুমিন রাসুল (দঃ)-কে পেয়ে কুরআন ও শরীয়ত মোতাবেক (মিলাদুন্নাবতে কুরআন-হাদিস পাঠ, নবীজীর উপর দরুদ ও সালাম পাঠ, নবীজীর আলোচনা যা আল্লাহ্‌ পুরো কুরআন জুড়ে করেছেন, সাহাবীদের সুন্নাতের অনুসরণ করে জশনে জুলুস করা, অবশেষে মুনাজাত করা হয়। আপ্নিই বলুন এখানে কোন কাজটি ইসলাম বিরোধী? একটিও পাবেন না বরং সবই কুরআন হাদিস মতে উত্তম কাজ। যখন রাসুল (দঃ) এর জন্মদিন পালন করি তখন কিছু অবুঝের ঈমান/বিবেক কুরআন-হদিস খুজে!! ধিতকার এমন বিবেকে যা ইসলাম ও রাসূল (দঃ) থেকে মানুষকে দূরে রাখে। এটা ঈমান নয় বরং এটা শয়তান। কেননা আমরা পড়েছি ইবনে কাসিরের আল বিদায়া ওয়ান্নেহায়া ২/১৬৬পৃঃ উল্লেখ আছেঃ যখন রাহ্মাতুল্লিল আলা’মিনের জন্ম হলো তখন ইবলিস খুবই কেঁদেছিল ও দুঃখ পেয়েছিল। তাই আজ মিলাদুন্নাবীতে যদি কারো মন ব্যথিত হয়, তাহলে সেই বিবেচনা করুক তাঁর ঈমান কোন দিকে যাচ্ছে এবং কাকে অনুসরণ করছে? রহমানকে নাকি শইতানকে?

কিছু স্বল্পজ্ঞানী বলে থাকে যে এইদিনই রাসুল (দঃ) ওয়াফাত করেছেন, তাই আমাদের শোক পালন করা উচিৎ!! তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি যে হাদিসে এসেছে নবীগন কবরে জীবিত ও তারা নামাযরত। (দেখুন মুসলিম শরীফ ৪/১৮৪৫পৃঃ ২৩৭৫নং হাদিস) (ইবনে মাজাহ্‌ ২/২৯১পৃঃ ১৬৩৭নং হাদিস) (মুসনদে আবু ইয়ালা ৩/৩৭৯পৃঃ ৩৪১২নং হাদিস) এছাড়াও সহীহ হাদিস মতে সাধারন কোন মানুষের জন্যও তিন দিনের বেশি শোক পালন করতে পারবেন না। তাইতো রাসুল (দঃ) আজ পর্যন্ত কেও শোক পালন করেননি। এছাড়াও রাসুল (দ:) বলেছেন “আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যানকর এবং আমার ওয়াফাতও তোমাদের জন্য কল্যাণকর”।

কিছু অবুঝেরা বলে থাকে যে ইসলামে ঈদ নাকি শুধু দুটোই, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আয্‌হা! আসুন আমরা দেখি ইসলামে ঈদ কইটি ও কি কিঃ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (দঃ) এরশাদ করেন, “নিশ্চয় এ এ দিন (জুমুআর দিন) আল্লাহ্‌ তায়ালা মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যাক্তি জুমুয়া পড়তে আসবে সে যেন গোসল করে ও সুগন্ধি থাকলে উহা লাগায় এবং তোমাদের উপর মিসওয়াক করা আবশ্যক। (ইবনে মাজাহ্‌ ৭৮পৃঃ) অনেকে রেওয়াতে ৯ই জিলহজ্ব অর্থাৎ আরাফার দিনটিকেই ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। (মিশকাত শরীফ ১২১পৃঃ ও তিরমিযী শরীফ ১৩৪পৃঃ)

সুতরাং এ কথা বলা (ঈদ শুধু দুটই) স্বল্পজ্ঞান বা মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। এছাড়াও অসংখ্য ইমাম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুজাদ্দিদ ও হক্কানী আলেমগন মিলাদুন্নাবী পালন করছেন যার বর্ণনা জগৎবিখ্যাত কিতাব আন-নেয়ামাতুল কুবরা আ’লাল আ’লামে বিস্তারিত রয়েছে। নবম শতাব্দির মুজাদ্দিদ ইমাম সুয়ুতি (রঃ) মিলাদুন্নাবী (দঃ)-এর পক্ষে উনার রচিত স্বীয় কিতাব “হুসনুল মাকাসিদ ফি আমালিল মৌলিদ” ৬৫পৃঃ হাজী ইমদাদুল মুহাজেরে মাক্কী (রঃ) তাঁর ফয়সালায়ে হাফত মাসায়ালে মিলাদুন্নাবী পালন সম্পর্কে উত্তম কথা বলেছেন।

এছাড়াও ইবনে তাইমিয়া (যাকে বাতেলেরা তাদের ইমাম মনে করে) সেও তাঁর কিতাব “ইক্বতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম” এ লিখেছে “ যদি মিলাদ মাহফিল রাসুল (দঃ) এর প্রতি ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য করা হয়ে থাকে তবে আল্লাহ্‌ এ মুহাব্বাত ও সম্মান প্রদর্শনের কারণে সাওয়াব বা প্রতিদান দেবেন”। একই কিতাবে সে আরো লিখেছে “ বরং ঐদিনে (রাসুল (দঃ) জন্মদিনে) পরিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করা এবং এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, উত্তম নিয়ত এবং হুজুর(দঃ) এর প্রতি মুহাব্বাত প্রদর্শন বড় প্রতিদানের কারণ হবে”। অপরপক্ষে মিলাদুন্নাবী হারাম বা নাজায়েয হওয়ার পক্ষে কুরআন- সহীহ হাদিসতো দুরের কথা বরং দ্বয়ীফ তথা দুর্বল হাদিসও নেই। 

আল্লাহ আমাদের ঈমানকে ছদ্মবেশি বাতেলদের হাত থেকে রক্ষা করে সিরাতে মুস্তাকিমে চলে এই মহান মহান দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করার তওফিক দান করুক (আমীন)।


ড. সৈয়দ মুহাম্মাদ ইরশাদ আল বুখারী (মাঃযিঃআঃ)
[মহাপরিচালকঃ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর, বাংলাদেশ]

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !