অনুচ্ছেদ : বাংলা ২য় পত্র - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা (২য় পর্ব)

অনুচ্ছেদ : বাংলা ২য় পত্র - নবম ও দশম শ্রেণি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা (২য় পর্ব)

(toc)


বাক্য মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। কিন্তু সব সময় একটি বাক্যের মাধ্যমে মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। এজন্য প্রয়োজন একাধিক বাক্যের। মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত বাক্যের সমষ্টিই অনুচ্ছেদ। অনুচ্ছেদে কোনো বিষয়ের একটি দিকের আলোচনা করা হয় এবং একটি মাত্র ভাব প্রকাশ পায়। অনুচ্ছেদ রচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি দিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। যেমন- 

  • একটি অনুচ্ছেদের মধ্যে একটি মাত্র ভাব প্রকাশ করতে হবে। অতিরিক্ত কোনো কথা লেখা যাবে না।
  • সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো বাক্যের মাধ্যমে বিষয় ও ভাব প্রকাশ করতে হবে। 
  • অনুচ্ছেদটি খুব বেশি বড় করা যাবে না। লিখতে হবে একটি মাত্র প্যারায়। কোনোভাবেই একাধিক প্যারা করা যাবে না।
  • একই কথার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • যে বিষয়ে অনুচ্ছেদটি রচনা করা হবে তার গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সহজ-সরল ভাষায় সুন্দরভাবে তুলে ধরতে হবে। অনুচ্ছেদের বক্তব্যে যেন স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রকাশ পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

স্বেচ্ছায় রক্তদান

মানুষ সামাজিক জীব। পরের কল্যাণে নিজে উৎসর্গ করে জীবনকে সার্থক করার সুযোগ কেবল মানুষই পায়। বর্তমান সময়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান মানুষের কল্যাণ করার এক চমৎকার সুযোগ হয়ে ধরা দিয়েছে মানুষের কাছে। রক্ত মানবদেহের অপরিহার্য একটি উপাদান। রক্ত থাকলেই মানুষের দেহ সজীব ও সক্রিয় থাকে। কিন্তু রক্তের ঘাটতি হলেই মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সুস্থ ব্যক্তির স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিনিময়ে যেকোনো মুমূর্ষু ব্যক্তির জীবন বেঁচে যেতে পারে। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো মহৎ কাজ আর নেই। বর্তমানে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে আগ্রহী করতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নানা ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগঠন হলো ‘সন্ধানী’। ১৯৭৭ সাল থেকে। এখনও এটি জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বাঁধন’-এর অন্তত ১০০টি শাখা রয়েছে। স্বেচ্ছায় রক্তদান করলে যেকোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবেও সুস্থ থাকতে পারেন আবার তা অন্যের জীবনকেও বাঁচিয়ে তোলে। তাই স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে সবাইকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসবে হবে।


মহান বিজয় দিবস

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে এদিন আমাদের দেশ শত্রু মুক্ত হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে ‘বাংলাদেশ’ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তাই ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর সাধারণ নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর আমরা এই ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয় লাভ করি। তাই বাংলার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা মহাসমারোহে এদিনটি উদ্যাপন করে। এদিন বিভিন্ন অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যগণ পতাকা উত্তোলন করেন এবং কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও দেশের প্রধান প্রধান সড়ককে জাতীয় পতাকায় সুশোভিত হয়। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে কত ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী মানুষ। বিজয়ের  আনন্দের মাঝে তাই জেগে ওঠে তাদের হারানোর বেদনা। মহান বিজয় দিবস শুধু জাতীয় মর্যাদায় অভিষিক্ত একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন নয়, এটি বাঙালির হৃদয় এবং সত্তার গভীরে প্রোথিত একটি অনন্য দিন। বিজয় দিবস স্বাধীনতাকামী বাঙালির পবিত্র চেতনার ধারক। বাঙালির হাজার বছরের সভ্যতা এবং সংস্কৃতির ইতিহাসে দ্যুতিময় এ মহান বিজয় দিবস চিরদিন সমুজ্জ্বলভাবে টিকে থাকবে। প্রতিবছর এ দিবসে আমরা আত্মসচেতন হই, প্রত্যয়ে দৃপ্ত হই, অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করি-রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এ স্বাধীনতাকে আমরা যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখব।


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি” -এ চরণ দ্বারা আমরা স্মরণ করি ভাষাশহিদদের যারা মাতৃভাষা বাংলার জন্য প্রাণ দিয়েছিল। এ দিনটি ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করেছে। বহু তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের মাতৃভাষার গৌরব রক্ষা করেছি। ১৯৪৭ সালের  ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ‘পাকিস্তান’ সৃষ্টি হলেও পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের মাতৃভাষার মর্যাদা দিতে চায়নি। ১৯৪৮ সালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেন। ছাত্ররা তাৎক্ষণিক এর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এ প্রতিবাদ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ১৯৫২ সাল পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্রজনতা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গ করে মিছিলে মিছিলে রাজপথ প্রকম্পিত করে। প্রতিবাদী ছাত্রদের মিছিলে গুলি করা হলে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ অনেকে। তাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার মর্যাদা। প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি সরকারিভাবে পালন করা হয়। আমরা শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে একুশের শহিদদের শ্রদ্ধা জানাই। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩০তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে ১৮৮টি দেশে এ দিবস পালিত হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার স্বীকৃতির দাবিতে শহিদ হওয়ার ঘটনা  শুধু ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতেই ঘটেছিল। বাংলা ভাষার জন্য আত্মবিসর্জনের সে ঘটনা আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলা ভাষার কথা বাঙালিদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।


অতিথি পাখি

অতিথি পাখি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছরই উষ্ণতার খোঁজে হাজার হাজার কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়ে এই পাখিরা আমাদের দেশে উড়ে আসে। শীতপ্রধান দেশে তাপমাত্রা অধিকাংশ সময়ই শূন্যের নিচে থাকে। এর পাশাপাশি তুষারপাত, তুষারঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও দেখা যায়। এ সময় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া, ইউরোপ, হিমালয়ের আশপাশের কিছু অঞ্চল ইত্যাদি স্থান থেকে পাখিরা দল বেঁধে চলে আসতে থাকে অপেক্ষাকৃত কম ঠাণ্ডা অঞ্চলের দিকে। এই পাখিদেরকেই বলা হয় পরিযায়ী পাখি বা অতিথি পাখি। শীতের সময় অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে আমাদের নাটোরের চলনবিল অঞ্চলসহ কিছু জলাশয়। বাংলাদেশে আগত অতিথি পাখিদের মধ্যে অধিকাংশই আসে হিমালয়ের পাদদেশের তিব্বতের লাদখা থেকে সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে। এসব পাখির মধ্যে বালিহাঁস, বুনোহাঁস, চখাচখি, হেরন, সারস, ডাহুক, কাদাখোঁচা, গায়ক রেন পাখি, ডুবুরি পাখি, রাজসরালি, গ্যাডওয়াল, পিন্টেইল, নীলশীর, পিয়াং, চীনা, পান্তামুখী, গিরিয়া, খঞ্জনা, পাতারি, জলপিপি উল্লেখযোগ্য। প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি প্রতিবছর আমাদের দেশে বেড়াতে আসে। কয়েক মাস কাটিয়ে বসন্তকালে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিলের দিকে যখন শীতপ্রধান অঞ্চলের বরফ গলতে থাকে তখন তারা নিজ দেশে ফিরে যায়। এই পাখিগুলো আমাদের জীববৈচিত্র্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য সংযোজন করে। কিন্তু কতিপয় অসাধু পাখি শিকারি অতিথি পাখি শিকার করে বাঙালির অতিথিপরায়ণতার সুনামকে ক্ষুণ্য করে। অতিথি পাখির জন্য বাংলাদেশকে অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


বর্ষণমুখর দিন

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে প্রকৃতি যখন নির্জীব হয়ে ওঠে তখন বর্ষা আসে প্রাণস্পন্দন নিয়ে। বর্ষণমুখর দিনে অনুভ‚তিপ্রবণ মানুষ আরও বেশি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে। বর্ষণস্নাত দিন এক মিশ্র অনুভ‚তি সৃষ্টি করে মানুষের মনে। এদিনে মানুষ ও প্রকৃতি যেন একে অপরের মাঝে বিলীন হয়ে যায়। প্রতিটি মানুষের কাছেই এদিনটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তপ্ত তৃষিত পৃথিবীর বুকে বৃষ্টির স্পর্শ জাগায় রোমাঞ্চকর অনুভ‚তি। মানুষের মনেও তার প্রভাব পড়ে। প্রকৃতির বৃষ্টিস্নাত রূপ মানুষকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। বর্ষণমুখর দিনে মানুষের মাঝে অজানা এক আলস্য এসেও যেন ভর করে। কোনো কাজ-কর্মে মন বসে না। বাইরে যেতেও ইচ্ছা করে না কারও। এ দিন ঘরে থেকে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতেই মন চায় অধিকাংশ মানুষের। আর তার সাথে যদি খাবার হিসেবে থাকে গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ তবে তো কথাই নেই। বর্ষণমুখর দিনে আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। আকাশ কালো করে যখন চারদিক ছাপিয়ে বৃষ্টি নামে তখন প্রত্যেক মানুষের মনে এক শীতল অনুভ‚তির সৃষ্টি হয়। মাঠেÑঘাটে-প্রান্তরে সর্বত্র হুঙ্কার তুলে আসে প্রমত্ত বাদল। কর্মব্যস্ত মানুষকে এক পশলা শান্তির নির্যাস দিয়ে যায় যেন বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি। আর ঘরে অবস্থানরত মানুষের মনে একাকিত্বের করুণ সুর বেজে ওঠে। তাই বর্ষণমুখর দিন মানুষের মনে মিশ্র অনুভ‚তির সঞ্চার করে।


নারী শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে। নারী ও পুরুষ সমাজ নামক দেহের দুইটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নারী শিক্ষিত হলে পরবর্তী প্রজন্মও শিক্ষিত হয়ে গড়ে ওঠে। তাই নেপোলিয়ন বলেছেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব।” বর্তমানে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। দেশের উন্নতিতে পুরুষের পাশাপাশি এখন নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সবার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে শুধু মেয়েদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। নারী শিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যে সরকারের এ পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। শিক্ষকতায় এর মধ্যে ৬০ ভাগ শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পেশাগত শিক্ষায় এখন নারীর অংশগ্রহণ ৩৮ শতাংশ। সরকারের নানা উদ্যোগে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বাংলাদেশ ‘রোল মডেল’ হিসেবে কাজ করছে। নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ তুলনামূলক অগ্রগতি সাধন করলেও সার্বিক দিক বিবেচনায় তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে নারী শিক্ষার প্রসারে। তবেই দেশ ও জাতির যথাযথ অগ্রগতি সাধিত হবে।


সড়ক দুর্ঘটনা

সাম্প্রতিককালে অন্যতম জাতীয় সমস্যা হলো সড়ক দুর্ঘটনা। নিরাপদ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এটি। প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। পত্রিকা ওল্টালেই প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার বীভৎস সব খবর আমাদের চোখে পড়ে। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে মানবসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এআরসি) গবেষণা অনুযায়ী আমাদের দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হয় ৩৫ হাজার লোক। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার পেছনে রয়েছে নানা কিছু কারণ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; সরু রাস্তা ও রাস্তায় ডিভাইডার না থাকা, পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, উন্নতমানের ও টেকসই সড়কের অভাব, চালকের অদক্ষতা, ড্রাইভিং পেশার উৎকর্ষহীনতা, সনাতনি ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা, সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতার অভাব, বিকল্প যানবাহনের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকা, আইন প্রয়োগের অভাব, জনসচেতনতার অভাব, চালকের ওভারটেকিং করার প্রবণতা, রাস্তায় সড়কবাতি না থাকায় ইত্যাদি মনে রাখতে হবে যে, “একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না”। তাই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।


#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !