প্রশ্ন: কালিমায়ে তাইয়্যেবা অর্থাৎ لااله الا الله محمد رسول الله এক সাথে লিখা যাবে কিনা? এ ব্যাপারে ক্বোরআন এবং হাদীস শরীফের আলোকে আলোচনা করলে ধন্য হব।

প্রশ্ন: কালিমায়ে তাইয়্যেবা অর্থাৎ لااله الا الله محمد رسول الله এক সাথে লিখা যাবে কিনা? ব্যাপারে ক্বোরআন এবং হাদীস শরীফের আলোকে আলোচনা করলে ধন্য হব।

উত্তর: দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, কিছু দিন যাবত আমাদের বাংলাদেশে কিছু আলেম ছদ্মবেশী দুশমন গোস্তাখে রাসূল কালিমায়ে তাইয়্যেবা তথা لااله الا لله محمد رسول الله এক সাথে লেখা যাবে না বলে জঘন্য মিথ্যাচার এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শানে আক্বদাসে জঘন্য গোস্তাখী প্রদর্শন করে আসছে বিস্তুত তারা ঘৃণ্য মতবাদী গায়রে মুকাল্লিদ বদমাজহাবী ক্বোরআনে পাকে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন-
انّما المؤمنون الذين امنوا بالله وسوله ثم لم يرتابوا- (سورة نور-৬২)
অর্থাৎ নিশ্চয় তারাই একমাত্র মুমিন যারা আল্লাহ্ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে আর (অতঃপর) সন্দেহ পোষণ করে না [সূরা নূর: আয়াত ৬২] আয়াতের আলোকে বলা যায় لا اله الاّ الله লা-শরিক মহান আল্লাহ্র প্রতি এবং محمد رسول الله তথা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর প্রিয় নবী-রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা সমভাবে ফরজ উভয়ের প্রতি ঈমানের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র পার্থক্য নেই
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন-
فاعلم انه لا اله الا الله (سورة محمد- ১৯)
অর্থাৎ অতঃপর আপনি জানুন, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ বা ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নেই
[
সূরা মুহাম্মদ: ১৯] অপর আয়াতে রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন-
محمد رسول الله والذين معه اشداء على الكفار رحماء بينهم- (الفتح -২৯)
অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রিয় রাসুল এবং তাঁর সাথে যারা রয়েছেন কাফেরদের উপর খুবই কঠোর, তাদের পরস্পর সহানুভূতিশীল[সূরা ফাতাহ্: আয়াত ২৯] উপরিউক্ত আয়াতে করিমাদ্বয়ের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত যে, ক্বোরআনে পাকেকালিমায়ে তাইয়্যেবাঅকাট্যভাবে রয়েছে প্রশ্ন হতে পৃথকভাবে বর্ণিত আয়াত একসাথে হল কিভাবে? উত্তর হলো সাহেবে শরীয়ত হুযূর পুরনূর মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্ হাদীস শরীফে কলমায়ে তাইয়্যেবা একত্রিত করেছেন আর হাদীস শরীফ হল মূলত ক্বোরআনে পাকের আসল ব্যাখ্যা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যেহেতু হাদীসে পাকেলা-ইলাহা ইল্লাল্লাহহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্একত্রিত করেছেন বিদায় উম্মতে মুহাম্মদীর মুহাদ্দেসীন, মুফাসসেরীন সহ বিশ্বের সকল হক্কানী আউলিয়া মুজতাহিদগণ-
لا اله الا الله محمد رسول الله এক সাথে পড়া লেখার উপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন তাই উম্মতে মুহাম্মদী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) তথা সাহাবায়ে কেরামের যুগ হতে এযাবৎ সকল আহলে হক لااله الا الله محمد رسول الله কে কালিমা তাইয়্যেবা হিসেবে লিখে, মেনে আমল করে আসছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত মান্য করবেন
আর তা একত্রে লিখলে শিরক হবে যাবৎ প্রকৃত মুমিনের মধ্যে কেউ মন্তব্য করেন নাই সুতরাং ধরনের উক্তি মূলত মুর্খ/জাহেল মুনাফেক এবং গোস্তাখে রাসূলের হতে পারে কোন সত্যিকার মুমিনের উক্তি হতে পারে না অসংখ্য হাদীসে পাক রয়েছে যেখানে কালিমা তাইয়্যেবা তথা لا اله الا الله محمد رسول الله কে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যেমন-
اخرج ابن على وابن عساكر عن انس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما عرج بى رأبت على ساق العرش مكتوبًا لااله الا الله محمد رسول الله ايدته بعلىّ- (الخصائص الكبرى- جلد اصفحة ১৩)
অর্থাৎ হযরত ইমাম ইবনে আদী হযরত ইবনে আছাকীর রাহমাতুল্লাহি আলায়হি হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন আমাকে মিরাজে নেয়া হয় আমি আরশের পায়ায় লেখা দেখলাম لااله الا الله محمد رسول الله একসাথে কলমাকে আমি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর মাধ্যমে শক্তিশালী করব
[
খাসায়েসুল কুবরা, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩, কৃত: ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতী রহ.] একই কিতাবে উল্লেখ রয়েছে- ইমাম হাকেম রাহমাতুল্লাহি আলায়হি হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণনা করে হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা ঈসা আলায়হিস্ সালাম-এর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন যে, তুমি হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ঈমান (বিশ্বাস) স্থাপন কর এবং তোমার উম্মতকে নির্দেশ দান কর যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে পাবে সে যেন তাঁর উপর ঈমান আনে কেননা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যদি সৃষ্টি না হত আমি আদম, জান্নাত জাহান্নাম কিছুই সৃষ্টি করতাম না আর আমি (আল্লাহ্) অরশকে পানির উপর সৃষ্টি করি এতে আশদ দুলতে লাগল অতঃপর আমি আরশের উপর لا اله الاّ الله محمد رسول الله লিখে দিলে আরশ স্থির হয়ে যায়
[
খাসায়েসুল কুবরা: ১ম খণ্ড, ১৪ পৃষ্ঠা] অপর এক হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে- খলিফাতুল মুসলেমীন হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম যখন ভুলের (খাতায়ে ইজতাহাদীর) শিকার হলেন, আদম আলায়হিস্ সালাম বলেন, হে আমার রব! আমাকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওসিলায় ক্ষমা করুন আল্লাহ্ তাআলা বলেন, তুমি মুহাম্মদ কে কিভাবে চিনলে? হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম বললেন, আমাকে যখন আপনি আপনার কুদরতের হাতেত সৃষ্টি করে আমার ভিতর রূহ দিলেন তখন আমি আমার মাথা উত্তোলন করে দেখলাম আরশের পায়ায় লিখা রয়েছে-لا اله الاّ الله محمد رسول الله এতে আমি বুঝলাম, সৃষ্টির মর্ধ্যে সর্বাধিক প্রিয়জন ব্যতীতত অন্য কাউকে আপনার নামে সাথে যুক্ত করেননি আল্লাহ্ তাআলা বলেন, হে আদম! তুমি সঠিক বলেছ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করা না হলে তোমাকেও সৃষ্টি করতাম না ( হাদীসটি ইমাম হাকেম তারমুস্তাদরাকে, ইমাম বায়হাকী, সুনানে বায়তাকীতে ইমাম তাবরানী মুজামে ছগীরে, ইমাম আবু নাঈম ইমাম ইবনে আছাকীর স্বীয় কিতাবে এবং ইমাম আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি আলায়হিখাসায়েসুল কোবার১ম খণ্ডের ১২ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন
কানযুল উম্মাল নামক হাদীসের গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে-বিশিষ্ট সাহাবীয়ে রাসূলহযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর পয়গাম্বর হযরত সোলায়মান ইবনে দাঊদ আলায়হ্সি সালাম এর আংটির নকশার ছিলلا اله الله محمد رسول الله’ [কানযুল উম্মাল: ৬ষ্ঠ ণ্ড, পৃৃষ্ঠা ১২৫] জ্ঞাতব্য যে, ‘কানযুল ঊম্মালনামক হাদীসের এই কিতাবে শুধুমাত্র لا اله الا الله محمد رسول الله এক সাথে লিখার প্রদান স্বরূপ প্রায় ৪৩৪টি হাদীস শিরীফ বর্ণনা করা হয়েছে
অপর এক হাদীসে উল্লেখ রয়েছে-
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পতাকা ছিলো কালো আর তাঁর নিশান ছিল সাদা এতে লিখা ছিল لا اله الا الله محمد رسول الله
[
ইমাম তিরমিযী: ইবনে মাজাহ্] ধরনের আরো অসংখ্য হাদীস রয়েছে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুসনাদে আহমদে জাতীয় হাদীস বর্ণনা করেছেন
উপরোক্ত হাদীস শরীফ সমূহের আলোকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কালিমায়ে তাইয়্যেবা তথা لا اله الا الله محمدرسول اللهলা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্-এর সাথে মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্কে যুক্ত করে লেখা স্বয়ং আল্লাহর সুন্নাত আর এই কালিমা আরশে আজীম, জান্নাতের প্রতিটি দরজায় তার গাছ-পালার পাতায়-পাতায় বেহেশতের হুরদের কপালেও লিখা রয়েছে আল্লাহ্ তাআলা তার প্রিয় মাহবূব আক্বা মাওলা মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহকে স্বীয় নাম হতে পৃৃথক করেন নাই আর কাফির জালেমরা আল্লাহর পবিত্র নাম হতে তাঁর প্রিয় রাসূলের নাম পাককে পৃথক করতে চায় এটা তাদের কুফরী চরম বেয়াদবীর নিদর্শন
উল্লেখ্য যে, আরশ-কুরসী জান্নাত আসমানের প্রতিটি দরজায়লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’- এর সাথেমুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্একত্রে লেখা রাসূলে পাকের (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) প্রতি আল্লাহ তাআলা গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবং কুল কায়েনাত সৃষ্টি জগতকে প্রিয় নবী সরকারে কায়েনাত হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম শান-মান উঁচু মর্যাদা সম্পর্কে অবগত করাই মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য
যারা প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ্ হতে পৃথক করতে চায় তারা নিশ্চিত কাফির বেঈমান- বিষয়ে সূরা নিসায় মহান আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘‘নিশ্চয় যারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলগণের সাথে কুফরী করে আর তারা আল্লাহ্ তাঁর রাসূলগণের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায় আরো বলে, আমরা কোন নবীর উপর ঈমান এনেছি Í কোন নবীকে অস্বীকার করি তারা এর মধ্যে পৃথক রাস্তা বানাতে চায় তারা নিঃসন্দেহে কাফির বেঈমান আর আমি কাফিরদের জন্য অপমান জনক শাস্তি তৈরি করে রেখেছি
[
সূরা নিসা: আয়াত ১৫০-১৫১] আয়াতে করিমা হতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, যারা আল্লাহ্ এবং তার সম্মানিত রাসুলগণের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায় এবং তাদের শানে আরো বাঝে কথা বলে/ কটুক্তি করে তাদের শান-মানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করে তারা অবশ্যই কাফির বেঈমান
ধরনের বেঈমান গোস্তাখানে রাসূলের ষড়যন্ত্র বেয়াদবী হতে আল্লাহ্ তাবারকা তাআলা দেশবাসী সরল প্রাণ সাধারণ মুসলমানদেরকে বাচার তাওফিক দান করুন আমিন
[
আল্ খাসায়েসুল কুবরা কৃত: ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতী রহ., আল্ মুসতাদরাক কৃত: হাকেম নিসাপুরী রহ., সুনানি বায়হাকী কৃত: ইমাম বায়কী রহ., মুসনাদ কৃত: ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু]

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !