নতুন পাসপোর্ট করছেন? যে তথ্য জানা জরুরি

 

নতুন পাসপোর্ট করতে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। এখনও হাতে পাননি পাসপোর্ট।

বাংলাদেশ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর (https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status) লিংকে গিয়ে সহজেই পাসপোর্টের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে ‘স্ট্যাটাস চেক’ করতে পারেন। ই-পাসপোর্ট আবেদনের পর আবেদনকারীকে ১০ ধরনের স্ট্যাটাস দেখানো হয়।

১. ‘সাবমিটেড’ (Submitted)। পাসপোর্টের আবেদনটি সফলভাবে পাসপোর্ট অফিসের ওয়েব সার্ভারে জমা হয়েছে।

২, ‘অ্যাপোয়েন্টমেন্ট সিডিউল’ (Appointment Scheduled)। আবেদনকারীর সাক্ষাতের সময়সূচি নির্ধারণ সম্পূর্ণ হয়েছে।

৩. ‘এনরোলমেন্ট ইন প্রসেস’ (Enrolment in Process)। এই বার্তাটি আবেদনকারীর আবেদনপত্রের হার্ড কপি (ছবি ও ফিঙ্গার প্রিন্টসহ) পাসপোর্ট অফিসে জমা হয়েছে। আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন অবস্থায়। এই ধাপ সম্পূর্ণ হতে ১-২ দিন লাগে।

৪. ‘পেন্ডিং এসবি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ (Pending SB Police Clearance)। পাসপোর্টের নতুন আবেদন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। এই ধাপ সম্পূর্ণ হতে ৩-১০ দিন লাগে। ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি সময় লেগে যায়। পুলিশ অফিসার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে যতদিন সম্ভব ততদিন সময় নিতে পারবেন। তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হলেই রিপোর্ট দেন।

৫. ‘পেন্ডিং ফাইনাল অ্যাপ্রুভাল’ (Pending Final Approval): পুলিশ ভেরিফিকেশনে সন্তোষজনক রিপোর্ট দিলে আবেদনটি পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালকের (এডি) অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে। এই ধাপ সম্পূর্ণ হতে ১-৪ দিন লাগে।

৬. ‘অ্যাপ্রুভড’ (Approved) বার্তাটিতে বোঝায়- অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (এডি) পাসপোর্টটি প্রিন্টের অনুমোদন দিয়েছেন। ধাপটি সম্পূর্ণ হতে ১-৩ দিন লাগে।

৭. ‘পেন্ডিং ইন প্রিন্ট কিউ’ (Pending in Print Queue) দেখলে সেবাপ্রার্থীকে বুঝতে হবে- পাসপোর্ট প্রিন্টে পাঠানো হয়েছে। ধাপটি শেষ হতে ৩-১৪ দিন লাগে।

৮. ‘পাসপোর্ট শিপড’ (Passport Shipped) বার্তাটি বোঝায়, পাসপোর্টটি সফলভাবে প্রিন্ট হয়েছে এবং তা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হচ্ছে। এই ধাপ সম্পূর্ণ হতে ১-৩ দিন লাগে।

৯. ‘পাসপোর্ট রেডি ফর ইস্যুয়েন্স’ (Passport Ready for Issuance) বলতে পাসপোর্টটি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছেছে। আবেদনকারী দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে যেতে পারেন।

১০. পাসপোর্ট নেয়ার পর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে ‘পাসপোর্ট ইস্যুড’ (passport issued) ম্যাসেজ যায়।

এসএমএস করলে উত্তর আসে Pending for Passport Personalization কিংবা Pending for Backend Verification। এমন অবস্থায় আপনার করণীয় কী? সে তথ্য আজ আপনাকে জানাব।

১. Payment verification result – Name Mismatch : আপনার ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার নামের বানান এবং পাসপোর্ট ফরমে লিখা নামের বানানে অসমাঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে আপনার পাসপোর্ট প্রাপ্তির রশিদ, জন্মনিবন্ধন/জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ যোগাযোগ করুন।

২. Your application is pending on payment investigation (Amount mismatch or reference number mismatch) : আপনার ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরিমাণ এবং পাসপোর্ট ফরমে লিখা টাকা জমা দেওয়ার পরিমাণ অথবা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদের নম্বরে অসমাঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে আপনার পাসপোর্ট প্রাপ্তির রশিদসহ যোগাযোগ করুন।

৩. Pending for police approval : আপনার আবেদনপত্রটি পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আবেদকারীর বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা যদি আলাদা হয় তবে উভয় ঠিকানায় তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

৪. Pending for Assistant Director/Deputy Director Approval : পাসপোর্টের কাগজপত্র একজন Assistant Director/Deputy Director পদমর্যাদার অফিসার চেক করেন। তিনি অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত এরকম দেখাবে। এই ধাপ সম্পন্ন হতে ৫/৬ দিন লাগে। তবে তিন সপ্তাহের বেশি হয়ে গেলে বুঝবেন আপনার পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট এখনও পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছায়নি তাই Assistant Director / Deputy Director কর্তৃক অনুমোদন হচ্ছে না।

৫. Pending for Backend Verification : আপনার পাসপোর্টটি ঢাকায় প্রিন্টিং শাখায় পাঠানো হবে, তাই সকল তথ্য পুনরায় মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি হতে সাধারণত ১ বা ২ কর্মদিবস লাগে।

৬. Pending for Passport Personalization : এই ধাপটি অনেকগুলো অংশে বিভক্ত। যেমন - Laser Engraving, HD DOD Colour Inkjet Printing, Security Lamination, Inline Quality Control (Optical / Electronic),RFID Encoding। পাসপোর্ট বইয়ের যথাযথ মজুত ও মুদ্রণ যন্ত্র সচল থাকা সাপেক্ষে ৩/৫ কর্ম দিবস বা তারও বেশি সময় লাগে।

৭. In Printer Queue : আপনার পাসপোর্টটি মুদ্রণ শাখায় মুদ্রিত হওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ আছে। পাসপোর্ট যথাযথ বইয়ের মজুত ও যন্ত্র সচল থাকা সাপেক্ষে ২/৩ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে।

৮. Printing Succeeded : আপনার পাসপোর্টটি সফলভাবে মুদ্রিত হয়েছে এবং Quality Control শাখায় পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

৯. QC Succeeded, Ready for Dispatch : সফলভাবে মুদ্রিত হওয়ার পর আপনার পাসপোর্ট বইটি Quality Control শাখা দ্বারা পরীক্ষা করা হচ্ছে যে, মুদ্রণে কোন ত্রুটি রয়েছে কি-না। এই ধাপে সব কিছু ঠিক থাকার পর আপনার পাসপোর্ট আবেদনকৃত অফিসে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়।

১০. Passport is Ready, Pending for Issuance : ঢাকার পাসপোর্ট মুদ্রণ শাখা থেকে পাসপোর্ট ডাক যোগে জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতে আসতে ৪/৫ কর্মদিবস সময় লাগে। এরপর পাসপোর্টগুলো বিতারণের জন্য প্রস্তুত হয়। এর মধ্যে আবেদনকারীর মোবাইল ফোনে পাসপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য SMS পৌঁছে যায়। তবে SMS না পেয়ে থাকলে অনুগ্রহ করে আরও ২/৩ কর্মদিবস অপেক্ষা করুন।





Tags

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !